জনকল্যাণ শিবিরে ভিড়। মঙ্গলবার ময়নাগুড়িতে। ছবি: দীপঙ্কর ঘটক।
শুরু হয়েছে জনকল্যাণ শিবির। সেই শিবিরে বিভিন্ন প্রকল্পের ফর্ম পূরণের নামে কেউ পঞ্চাশ টাকা, কেউ একশো টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠল। কোচবিহার ১ ব্লক দফতর সংলগ্ন শিবিরে তা নিয়ে ক্ষোভ জানান বিজেপি কর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, কয়েক জনকে টাকা ফেরাতেও বাধ্য করেন। এক জনকে শিবির থেকে চলে যেতেও বলা হয়।
বিজেপির দাবি, তৃণমূল আমলের অভ্যাস অনেকের এখনও যায়নি। সে জন্য শিবিরগুলিতে বিজেপি কর্মীদেরও ফর্ম পূরণে সহায়তা করার পরামর্শ দলের তরফ থেকে দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের কাছেও নজরদারি জন্য বিজেপি কর্মীরা আর্জি জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তারা ইতিমধ্যে নজরদারি শুরু করেছে। কেউ অনৈতিক কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজেপির কোচবিহার জেলার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘তৃণমূল আমলের অভ্যাস কেউ কেউ ছাড়তে পারেননি। সর্বত্র আমাদের নজরদারি রয়েছে। আমাদের কর্মীরা ফর্ম পূরণে সহায়তা করছেন। সেই সঙ্গে প্রশাসনের কাছে বিষয়টিতে নজরদারি করার
আর্জি জানাব।’’
১৫ মে থেকে রাজ্য জুড়ে জনকল্যাণ শিবির শুরু হয়। কোচবিহার জেলার প্ৰত্যেকটি ব্লকে একাধিক শিবির চালু করা হয়েছে। সেই শিবিরগুলিতে ভিড় করছেন হাজার হাজার মানুষ। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন দিন ধরে ওই শিবির চলবে। এই পর্যায়ে শিবির শেষ হবে ১৭ মে। ওই শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনা, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প, জব কার্ড তৈরি-সহ নানা সুবিধা পেতে ফর্ম তুলে তা পূরণ করে জমা দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই সেই ফর্ম পূরণে সড়গড় নন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিবিরের আশেপাশে অনেকেই ফর্ম পূরণের জন্য বসে রয়েছেন। অভিযোগ, একটি ফর্ম পূরণ করতে কেউ একশো টাকা, কেউ পঞ্চাশ টাকা নিচ্ছেন। কোচবিহারে ১ ব্লক দফতরে হাজির হওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘‘ফর্ম পূরণে একটু অসুবিধা হচ্ছিল। তাই সাহায্য নিয়েছি। আমার কাছ থেকে সে জন্য পঞ্চাশ টাকা নেওয়া হয়।’’