চা সুন্দরীর এই ঘর নিয়েই উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। নিজস্ব চিত্র ।
বিদায়ী তৃণমূল সরকারের বহু প্রচারিত ‘চা সুন্দরী’ আবাসন প্রকল্প ঘিরে ডুয়ার্সের মাদারিহাটে বিতর্ক শুরু হল। চা শ্রমিকদের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি আবাসনের বড় অংশ এখনও ফাঁকা পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। নির্মাণে অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, সরকারি টাকার অপচয় এবং অবৈধ ভাবে নদী থেকে বালি-পাথর তোলার অভিযোগ তুলে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে বিজেপি।
২০২৩ সালে ডুয়ার্সের রুগ্ন ও বন্ধপ্রায় চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্পের আওতায় আবাসন নির্মাণ শুরু করে রাজ্য সরকার। মাদারিহাট ব্লকের মুজনাই, লঙ্কাপাড়া, তোর্সা-সহ একাধিক চা বাগানে কয়েক হাজার ঘর তৈরি করা হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র মুজনাই চা বাগান এলাকায় প্রায় ৮০০টি আবাসন তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে লঙ্কাপাড়ায় তৈরি হয়েছে প্রায় ১৭০০টি ঘর। সাংসদ মনোজ টিগ্গার দাবি, প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে প্রায় ৫ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে যে ঘরগুলি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ শ্রমিকদের একাংশের। বিজেপির দাবি, এত বিপুল টাকা বরাদ্দ হওয়ার পরেও ঘরের যা হাল, তাতে স্পষ্ট প্রকল্পের টাকার বড় অংশ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, যে সব এলাকায় ঘর তৈরি হয়েছে, তার অনেকটাই নদী সংলগ্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষাকালে মুজনাই নদীর জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ঘরে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও নিকাশি ব্যবস্থারও অভাব রয়েছে। এলাকায় বুনো হাতির উপদ্রবও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায় , মুজনাই নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি ও পাথর তুলে সেই সামগ্রী দিয়ে চা সুন্দরীর ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ, নিম্নমানের নদীর বালি ব্যবহার করায় বহু বাড়ির দেওয়ালে ইতিমধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে।
মুজনাই চা বাগানের বাসিন্দা বিকাশ ওরাওঁ বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম যেখানে এতদিন ধরে বসবাস করছি, সেখানেই ঘর তৈরি করে দিতে। কিন্তু নদীর ধারে এমন জায়গায় বাড়ি করা হয়েছে যেখানে থাকা নিরাপদ নয়। ঘরের দেওয়ালও খুব দুর্বল। বর্ষায় কী হবে সেই ভয় রয়েছে।”
বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা অভিযোগ করে বলেন, “একটি বাড়ির জন্য ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকার বেশি বরাদ্দ হয়েছে। অথচ বাস্তবে যে বাড়ি তৈরি হয়েছে, তা এক থেকে দেড় লক্ষ টাকায় হয়ে যেতে পারে। তা হলে বাকি টাকা কোথায় গেল? এর তদন্ত দরকার।” বিজেপি নেতা শৈলেন রায়ের দাবি, “চা শ্রমিকদের উপকারের নামে কিছু ঠিকাদার ও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতারা কোটি-কোটি টাকা লুট করেছেন। তদন্ত হওয়া উচিত।” বিজেপির মাদারিহাটের তিন নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সন্তোষ মাহাতোরও দাবি করেন, আবাসনের নামে সরকারি টাকা লুটের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।