Tea Gardens

অতিবৃষ্টিতে চা বাগানে মশার দাপট, দুশ্চিন্তা উৎপাদনে

মরসুমের শুরুতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং রোদ পেয়ে চায়ের উৎপাদন ভালই হয়েছে। প্রথম ফ্লাশের চায়ের উৎপাদন নিয়ে খুশি চা মহল্লা। পাহাড়-ডুয়ার্স দুইয়েরই প্রথম ফ্লাশের গুণমান বেশ ভাল বলে দাবি।

অনির্বাণ রায়
শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০১:৫১

— প্রতীকী চিত্র।

সদ্য বের হওয়া কচি সবুজ চা পাতাকে বড্ড ‘জ্বালাতন’ করছে মশার দল। কচি পাতা খেয়ে ফেলছে, ফুটো করে দিচ্ছে। তার জেরে চা উৎপাদন নিয়েই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে উত্তরবঙ্গে। মশার দাপটে অতিষ্ট উত্তরবঙ্গের চা বাগান। এই মশার নাম হেলপোলটিস। চা বাগানে সারা বছরই অল্প-অল্প হেলপেলটিসের আক্রমণ চলে। তবে এ বারের অতিবৃষ্টিতে সেই আক্রমণ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে চায়ের দ্বিতীয় ফ্লাশের উৎপাদনই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মরসুমের শুরুতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং রোদ পেয়ে চায়ের উৎপাদন ভালই হয়েছে। প্রথম ফ্লাশের চায়ের উৎপাদন নিয়ে খুশি চা মহল্লা। পাহাড়-ডুয়ার্স দুইয়েরই প্রথম ফ্লাশের গুণমান বেশ ভাল বলে দাবি। কিছু বাগানের প্রথম ফ্লাশের চা পাতার দামও তুলনামূলক ভাবে বেশি বলে খবর। দ্বিতীয় ফ্লাশে চায়ের সেই প্রবণতায় বাধ সেধেছে মশার দল। গত বছর বৃষ্টি না পেয়ে চা উৎপাদন কমেছিল। চলতি বছরে গোড়া থেকেই বৃষ্টি হতে থাকায় চা মহল্লায় হাসিও ফুটেছিল। কিন্তু বর্ষা আসার আগে থেকে টানা বৃষ্টিতে পুরো পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে বলে দাবি।

চা পরিচালকদের সংগঠন টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া তথা টাই-এর দাবি, তরাই এলাকায় ৪২ শতাংশ এবং ডুয়ার্সে চলতি বছরে ৫২ শতাংশ বৃষ্টি বেশি হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে জন্ম নিচ্ছে হাজারে হাজারে হেলপেলটিস। তারাই দল বেধে আক্রমণ করছে চা গাছে। টাই-এর উত্তরবঙ্গের সচিব সুমিত ঘোষ বলেন, ‘‘আমরা খুবই আশঙ্কায় রয়েছি। অতিবৃষ্টিতে পোকার আক্রমণ প্রচণ্ড বেড়ে গিয়েছে। সরাসরি শস্য বিমার আওতায় চা না এলে খুবই ক্ষতি হবে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এই যে বদলে যা আবহাওয়া, তার সঙ্গে কীভাবে খাপ খাওয়ানো হবে তার উপায় বের করা।’’

ক্ষতি হয়েছে ছোট চা বাগানেও। ক্ষুদ্র চা চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠন সিস্টা-র সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘মশা-র অত্যাচারে চা গাছের পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে দোসর লুপার পোকা। উৎপাদনে প্রভাব পড়বে।’’

আরও পড়ুন