পুরসভার বোর্ড মিটিং। — নিজস্ব চিত্র।
বদল করা হয়েছিল কোচবিহার পুরসভার পুরপিতা পদে। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বদলে নতুন পুরপিতা হয়েছেন দিলীপ সাহা। রবীন্দ্রনাথের আমলে বৃদ্ধি করা হয়েছিল পুরসভার কর। যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর রোসের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। বৃহস্পতিবার ছিল নতুন পুরপিতার প্রথম বোর্ড মিটিং। সেখানেই মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পুরসভার কর। প্রথম বৈঠকের পরেই তাঁর ঘোষণা, ব্যবসায়ীদের কর মকুবের।
দীর্ঘ চার বছর ধরে অতিরিক্ত করের বোঝা মাথায় নিয়ে চলছিলেন কোচবিহারের ব্যবসায়ীরা। অবশেষে ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে অতিরিক্ত করের বোঝা মুকুব করল কোচবিহার পুরসভা। বৃহস্পতিবার পুরসভায় সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানালেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ছিল কোচবিহার পুরসভার বোর্ড মিটিং। এই বোর্ড মিটিংয়েই একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার মধ্যে অন্যতম ছিল শহরের ব্যবসায়ীদের ওপর থাকা অতিরিক্ত করের বোঝা সংক্রান্ত বিষয়। সাংবাদিক বৈঠকে চেয়ারম্যান জানান, বাজারে স্টল ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ১০০ স্কয়ার ফিটের জন্য পুরসভাকে দিতে হবে ৪০ হাজার টাকা আর ১০০ স্কয়ার ফিটের উপরে হলে সেই টাকার পরিমাণ প্রতি স্কয়ার ফিটে পাঁচ শতাংশ করে বাড়বে। পাশাপাশি দোকান ঘর ভাড়ার ক্ষেত্রে নির্দেশ, মূল রাস্তার পাশে দোকানগুলিকে স্কয়ার ফিট প্রতি দিতে হবে দেড় টাকা ও বাজারের ভিতরে থাকা দোকানগুলিকে স্কয়ার ফিট প্রতি দিতে হবে ১ টাকা।
ব্যবসায়ীদের করের বোঝা মুকুব করার পাশাপাশি শহরজুড়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার কাজ শুরু করা হবে বেলও জানান পুরপিতা। তার জন্য নতুন করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন এজেন্সির কাছে দরপত্র দেওয়া হবে। শহরের জঞ্জাল পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও নতুন করে আরো লোক নিয়োগ করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল অতিরিক্ত করের বোঝা মুকুবের। দীর্ঘ চার বছর ধরে এই বিষয়ে সরব হয়েছিলেন শহরের ব্যবসায়ীরা। অবশেষে ব্যবসায়ীদের সেই দাবি মান্যতা পাওয়ায় খুশি তাঁরা। পুরসভার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রীতিমতো বাজি ফাটিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন ব্যবসায়ীরা। জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুরোজ ঘোষ বলেন, ‘‘ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে পপরসভা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে স্বাগত জানাই। এর জন্য রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুরসভার চেয়ারম্যানকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’’