—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
প্রতিবেশীর সঙ্গে মারপিট করতে করতে তাঁর নলি কেটে খুন করে পালাচ্ছিলেন এর যুবক। রাস্তায় তাঁকে পাকড়াও করে শুরু হয় গণপিটুনি। রক্তাক্ত হয়ে রাস্তাতেই মৃত্যু হল খুনির। মঙ্গলবার জোড়া হত্যায় শোরগোল কোচবিহার-২ ব্লকের বোকালির মঠ এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সুকুমার ভুঁইয়া নামে ২৭ বছরের যুবকের বাড়ির সামনে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছিলেন কয়েক জন যাযাবর। মঙ্গলবার তাঁদেরই এক যুবকের সঙ্গে কোনও একটি বিষয়ে বচসা হয় সুকুমারের। তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুকুমারকে আঘাত করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ।
খুন করে পালানোর চেষ্টা করলেও ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন স্থানীয় কয়েক জন এবং মৃতের পরিবারের লোকজন। শুরু হয় বেধড়ক মারধর। খবর পেয়ে পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগে গণপিটুনিতে মারা গিয়েছেন হত্যাকারী সন্দেহে পাকড়াও হওয়া যাযাবর। দু’টি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।
মৃত সুকুমারের মা,সোমা ভুঁইয়ার দাবি, ‘‘যাযাবরেরা যেখানে থাকত, সেখানে আমার ছেলের সঙ্গে তাদের এক জনের বচসা হয়। দু’জনের ধাক্কাধাক্কি হয়। বাড়ি থেকে ছুটে যাচ্ছিলাম ওদের থামাতে। কখন দেখি, আমার ছেলেকে অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছে এক জন। আমাদের দেখে দৌড়ে পালায় সে।’’ তিনি জানান, ওই সময় এলাকার লোকজন অভিযুক্তকে ধরে মারধর শুরু করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ঘটনায় পাঁচ জনকে তারা আটক করেছে। বাকি তদন্ত চলছে। কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যাযাবর সম্প্রদায়ের একটি পরিবার গ্রামের একটি পরিবারের জমিতে থাকতেন। সেই পরিবারের ছেলের সঙ্গে বচসার সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। ওই যুবকের মৃত্যু হয়। তার পরেই রাস্তায় অভিযুক্তকে ধরে মারধর করেন স্থানীয়েরা। এই ঘটনায় পরিবার এবং স্থানীয়-সহ পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।