—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
নিজের নাম নেই। স্ত্রী, পুত্র এবং পুত্রবধূর নামে এসআইআরের শুনানিতে যাওয়ার নোটিস এসেছে বাড়িতে। সেই নোটিস আসার পরেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মালদহের চাঁচলের ষাট্টোর্ধ্ব বৃদ্ধ। মঙ্গলবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের দাবি, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন তিনি। সেই থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মালদহের চাঁচল-২ ব্লকের বলরামপুর এলাকার বাসিন্দা জলিল আলি। পরিবারের দাবি, দিন কয়েক আগে তাঁর বাড়িতে এসআইআরের নোটিস আসে। স্ত্রী, সন্তান এবং পুত্রবধূর নামে নোটিস দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জলিল। ভোটাধিকার থাকবে তো? নাগরিকত্ব নিয়ে কী হবে? এমন নানা বিষয়ে চিন্তা করতেন। পরিবার-প্রতিবেশীদের সেই সব প্রশ্ন করতেন। সোমবার থেকেই অসুস্থতাবোধ করেন তিনি। মঙ্গলবার মৃত্যু হয় তাঁর।
মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়ান মালতীপুরের তৃণমূলের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী। তাঁর দাবি, এসআইআর-কে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে নির্বাচন কমিশন। এই নিয়ে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিজেপিকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন আব্দুর। যদিও এই সব দাবি মানতে নারাজ বিজেপি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
অন্য দিকে, মঙ্গলবার দুপুরে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন এক মহিলা। অসুস্থ মহিলার নাম আফসানা খাতুন। তাঁর বাড়ি বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙ্গি গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের শুনানিকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভিড় ছিল। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আফসানা। বেলা গড়ালেও শুনানিকেন্দ্রে পৌঁছোতে পারেননি তিনি। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাকালীনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।