—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বাছতে ফের সাক্ষাৎকার পর্ব (ইন্টারভিউ) সম্পন্ন হল। বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাক্ষাৎকারে ডাকা প্রার্থীদের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২ মার্চ কলকাতায় ইস্টার্ন বাইপাসের একটি অভিজাত হোটেলে ওই সাক্ষাৎকার পর্ব চলে। তাতে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ জানান, ১৭ জনকে ডাকা হয়েছিল। তার মধ্যে ১৪ জন উপস্থিত হয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে সার্চ কাম সিলেকশন কমিটির তৈরি তালিকা থেকে কয়েকমাস আগে এক বার এমন সাক্ষাৎকার হয়েছিল। তাতে কোনও লাভ হয়নি। রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাতে তা নিয়ে ঐক্যমত্য সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সার্চ কাম সিলেকশন কমিটির সুপারিশ মেনে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর ও রাজ্যপাল ঐক্যমত্যে আসে। সুপ্রিম কোর্ট উপাচার্যদের নাম ঘোষণা করেন। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। সেগুলি হল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় এবং উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সেগুলিতে উপাচার্যরা যোগও দিয়েছেন। অথচ আটকে উত্তরবঙ্গের সব চেয়ে পুরনো উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে উপাচার্য না থাকায় সেখানে নানান জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়েন্ট রেজিস্ট্রার স্বপন রক্ষিত বলেন, ‘‘সার্চ ও সিলেকশন কমিটি তৈরির পরেও এতদিন ধরে উপাচার্য নিয়োগ নানা কারণে আটকে রয়েছে। আমরা চাই দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক। তা না হলে নানা সমস্যাপ্রতিদিনই চলছে।’’
সাক্ষাৎকারে ডাক পাওয়া প্রার্থীদের একাংশ জানিয়েছেন, ডাক পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অতীতে যাঁদের ডাকা হয়েছিল তাঁরা অনককেই ছিলেন। সেই সঙ্গে কয়েকজন নতুন প্রার্থীও গিয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির এক অধ্যাপক, রসায়নের এক অধ্যাপককেও ডাকা হয়েছিল। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি উদয় ললিতের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের কমিটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁরা কতটা ঐক্যমত্যে পৌঁছলেন তা নিয়ে সদস্যদের একাংশের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে বলে ডাক পাওয়া প্রার্থীদের অনেকেই মনে করছেন। ৬ এপ্রিল উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের আরও দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগেের সাক্ষাৎকার পর্ব সম্পন্ন হয়েছে ৩ মার্চ।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অর্ধেন্দু মণ্ডল বলেন, ‘‘দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ হবে এই আশাতেই পড়ুয়া, শিক্ষক, কর্মী সকলেই বসে রয়েছেন। যত দেরি হচ্ছে তাতে সকলকেই নানা ভাবে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পড়ুয়াদের অভিযোগ, গবেষণার কাজ থমকে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার অধীনে থাকা কলেজগুলির পরীক্ষা ব্যবস্থা-সহ নানা বিষয়েই নিত্যনতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে।