উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ। ফাইল চিত্র।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে হুমকি প্রথা চালানোয় অভিযুক্ত ছাত্রকে হস্টেল থেকে বার করে দিতে সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার অ্যান্টির্যাগিং কমিটি বৈঠকে সিদ্ধান্তের রিপোর্ট কলেজের অধ্যক্ষকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঞ্জয় মল্লিক তাতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘অ্যান্টির্যাগিং কমিটি আলোচনা করে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই মতো বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’’
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চূড়ান্ত শিক্ষাবর্ষের ওই পড়ুয়া ফোনে জুনিয়র পড়ুয়াদের নানা ভাবে হুমকি দিতেন। পৃথক দল তৈরির জন্য তাঁদের উপর নানা বিধি নিষেধ চালু করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কোথাও যেতে নিষেধ করা হয়। কোনও সেমিনার বা কর্মসূচিতে যোগ দিতে গেলে তাঁর অনুমতি নিতে হবে জানান। কথা না শুনলে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হত বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে অন্তত ১৯ জন পড়ুয়া কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান।
এর পরেই বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠক ডাকে মেডিক্যালের অ্যান্টির্যাগিং কমিটি। সেখানে অভিযোগকারীদের ডেকে তাঁদের কথা শোনা হয়। অভিযুক্তকে ডেকেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের একাংশ জানান, জেরায় অভিযোগ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। তাঁর কাছে লিখিত ভাবে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। সেই বক্তব্য সন্তোষজনক মনে করেনি অ্যান্টির্যাগিং কমিটি। এর পর তাঁকে হস্টেল থেকে বার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবং অবিলম্বে তা কার্যকর করতে বলা হয়।
আর জি কর-কাণ্ডের পরে হুমকি প্রথা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। তা নিয়ে রাজ্য জুড়ে হইচই পড়ে। হুমকি প্রথা নিয়ে উত্তরবঙ্গ লবির বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। সে সময় পাঁচ জনকে হস্টেল থেকে বার করে দেওয়া হয়। অন্যান্য আরও একাধিক জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন কর্তৃপক্ষ। তার পরেও তলে-তলে মেডিক্যালে হুমকি প্রথা চলছিল বলে অভিযোগও তোলে ডিএসও ছাত্র সংগঠন। ফের পড়ুয়াদের অভিযোগ ওঠায় হুমকি প্রথার বিষয়টি সামনে আসায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।