সোমবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং শিলিগুড়ির সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহসভাপতি রাজু সাহা। — নিজস্ব চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনীতির পারদ চড়ছে। এ বার বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা ব্যবহারে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠল রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আর এরই প্রতিবাদে অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। সোমবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। এ দিন তাঁর সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহসভাপতি রাজু সাহা। পালটা শঙ্করকে একহাত নেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবও।
সোমবার, শঙ্কর অভিযোগ করেন, তাঁর বর্তমান বিধায়কের কার্যকাল ও আগের পাঁচ বছর বিধায়কের কার্যকালে একই ভাবে জেলা প্রশাসন তাঁর সঙ্গে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে শহরের একাধিক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ টাকা একাধিক অজুহাতে আটকে রেখেছে। বার বার এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন, রাজ্য সরকার, শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়রকে জানালেও কোন লাভ হয়নি। অভিযোগ, এতে শঙ্করের ভাবমূর্তি নষ্ট করার নোংরা ষড়যন্ত্র করছে রাজ্য সরকার ও শাসকদল। জানা গিয়েছে, শঙ্করের বর্তমান পাঁচ বছরের জন্য বরাদ্দ তিন কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৯০ লক্ষ টাকা খরচ করতে পেরেছেন। প্রায় ১০২টি প্রকল্প আটকে রাখা হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে।
এ দিন শঙ্কর বলেন, “আমার বিধায়কে কার্যকালে পাওয়া দুই জেলাশাসক আমাকে লাগাতার অসহযোগিতা করে গিয়েছে। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি যাতে উন্নয়নের টাকা সঠিক প্রকল্পে সাধারণ মানুষের স্বার্থে খরচ করা যায় সেজন্য শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকেও নয়টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দিয়েছিলাম। তারাও মাত্র দু’টি প্রকল্পর কাজ করে বাকি সাতটি বাতিল করে দিয়েছে। শিলিগুড়ি পুরনিগমকেও একই ভাবে একাধিক কাজের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তারাও একই ভাবে বাতিল করে দিয়েছে। এ ভাবে অসহযোগিতা করার জন্য আমি ২২ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ২৩ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত অনশনে বসব। তার পরেও একই ভাবে অসহযোগিতা করা হলে আগামীতে আরও বড় আন্দোলন করব।”
পালটা এই বিষয়ে শঙ্করকে একহাত নেন গৌতম। তিনি বলেন, “এখন সামনে নির্বাচন তাই এ সব বলছে বিধায়ক। নেই কাজ তো খই ভাজ। আমাদের যে সব কাজের জন্য বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে বরাদ্দ করা হয়েছিল, সে সবের মধ্যে যে ক’টা কাজ সম্ভব সেগুলি করা হয়েছে। বাকিগুলির সে রকম কোনও গুরুত্ব ছিল না। এ সব বলে বাজার গরম করা হচ্ছে। এখন তিনি অনশন করছেন, করতেই পারেন।”