Rajganj BDO

রাজগঞ্জের বিডিও বদল! সুপ্রিম কোর্টও আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার পর সরিয়ে দেওয়া হল স্বর্ণকার খুনে অভিযুক্ত প্রশান্তকে

গ্রেফতারি এড়াতে প্রশান্ত বার বার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রথমে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আর্জি জানান তিনি। সেই আর্জি মঞ্জুরও হয়। তবে কলকাতা হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খান তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৪
Rajganj BDO Prashant Barman removed from post

খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মণ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজগঞ্জের বিডিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল প্রশান্তকে। তাঁর বদলে দায়িত্ব দেওয়া হল সৌরভকান্তি মণ্ডলকে। এত দিন তিনি রাজগঞ্জেরই যুগ্ম বিডিও পদে ছিলেন।

Advertisement

মঙ্গলবার নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিডিও সৌরভকে সংবর্ধনা দেন স্থানীয় বিধায়ক খগেশ্বর রায়। তিনি আশাবাদী, এ বার ওই ব্লকে কাজে গতি আসবে। খগেশ্বর বলেন, ‘‘থমকে থাকা প্রশাসনিক কাজে এ বার গতি আসবে। সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক কাজ আটকে ছিল।’’

গত ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি থেকে উদ্ধার হয় স্বর্ণকার স্বপনের দেহ। তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই মামলায় নাম জড়ায় প্রশান্তের। বিধাননগর পুলিশ জানায়, তিনিই এই ঘটনায় ‘মূল অভিযুক্ত’। তবে খুনের মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই ‘গা-ঢাকা’ দেন প্রশান্ত।

বিরোধীদের দাবি, খুনের মামলায় প্রশান্তের নাম জড়ালেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি রাজ্য সরকার। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তড়িঘড়ি রাজগঞ্জের বিডিও বদল করা হল। গ্রেফতারি এড়াতে প্রশান্ত বার বার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রথমে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আর্জি জানান তিনি। সেই আর্জি মঞ্জুরও হয়। তার পরেই বারাসত আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ।

রাজগঞ্জের নতুন বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল।

রাজগঞ্জের নতুন বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল। —নিজস্ব চিত্র।

কেন প্রশান্তকে আগাম জামিন দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট। শেষে বারাসত আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। আগাম জামিন খারিজ করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্তকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেলেও আত্মসমর্পণ করেননি প্রশান্ত। তার পরেও ওই বিডিও-র বিরুদ্ধে বিধাননগর আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। তবে প্রশান্ত হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন।

যদিও সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি পাননি প্রশান্ত। সোমবার শীর্ষ আদালত জানায়, আগামী শুক্রবারের মধ্যে তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে তাঁকে। তবে বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইয়ের বেঞ্চ এ-ও জানায়, আত্মসমর্পণ করার পরে ওই বিডিও জামিনের আবেদন করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ নিম্ন আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারবে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিডিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল প্রশান্তকে।

Advertisement
আরও পড়ুন