রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ফাইল চিত্র।
ভোটের বেশ কিছু দিন আগে থেকেই দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। পছন্দসই আসনে টিকিট না পাওয়ায় ভোটেও দাঁড়াননি। ভোট প্রচার থেকে কার্যত নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরে তিনি তোপ দেগেছেন দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। এ বার কোন পথে যাবেন রবীন্দ্রনাথ? রাজনীতিতে কী ইতি টানবেন, না ফের তৃণমূলের হয়ে ফের মাঠে নামবেন? দলের বাকি বিক্ষুব্ধরা নেতাদেরই বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? তা নিয়েই এখন জোরদার চর্চা শুরু হয়েছে কোচবিহারে।
বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘‘ভবিষ্যতে কী করব, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। কলকাতার দিকে তাকিয়ে আছি, দিদি কী করেন। দলের খোলনলচে বদলে নতুন করে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে কী না, তা দেখছি। তার পরেই বাকি কথা জানাব।’’ তিনি অভিযোগ করেন, কোচবিহারে যাঁদের হাতে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের কাউকেই এখন কর্মীরা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘‘সাধারণ কর্মীরা কী করবেন বুঝে উঠতে পাচ্ছেন না। অনেকেই ফোন করছেন আমাকে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’’
দলের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী ও প্রাক্তন জেলা সভাপতি মাথাভাঙার বাসিন্দা বিনয়কৃষ্ণ বর্মণও বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের পরে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন। সে ভাবে দলীয় প্রার্থীর প্রচারেও দেখা যায়নি তাঁকে। ভোটের পরেই স্ত্রী'র চিকিৎসায় দক্ষিণ ভারতে গিয়েছিলেন। গণনার পরে বাড়ি ফিরেছেন। বললেন, ‘‘মাথাভাঙায় ভোটের ফল কী হবে তা আগে থেকেই জানতাম। প্রবীণ নেতাদের জানিয়েওছিলাম ৩০ থেকে ৪০ হাজারে পরাজয় হবে। তা ৫০ পেরিয়ে গিয়েছে। দল তো আমাকে পাঁচ বছর ধরে বসিয়ে রেখেছে। কোনও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এ সবের পরিণাম। আগামী নিয়ে তাই আর কিছু ভাবছি না।’’
আর এক প্রবীণ নেতা আব্দুল জলিল আহমেদও প্ৰার্থী বাছাইয়ের পর ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘‘দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কাছে পেলে জিজ্ঞেস করব পুরনোরা কী দোষ করেছে?’’ এ দিন জলিল আহমেদ বলেন, ‘‘সবই পরামর্শদাতাকারী সংস্থার উপরে নির্ভরশীলতার ফল। আগামী দিনে দলের গতিপথের দিকে নজর রাখছি।’’