পুলিশকে ‘সাবধানবাণী’ মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের। —নিজস্ব চিত্র।
তৃণমূল আমলে বিভিন্ন সময় পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গিয়েছে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে। পর্যটন মন্ত্রীকে এ বার দেখা গেল সোজা থানায় গিয়ে পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিতে। ‘মাফিয়ারাজ’ বন্ধ করতে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার আশিঘর পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে তিনি পুলিশকে বললেন, ‘‘ব্যবস্থা নিন। আমাকে যেন দ্বিতীয় বার আসতে না-হয়। আসতে হলে কী হবে আমিও জানি না।’’
বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন সেরে শিলিগুড়ি ফিরেছেন মন্ত্রী শঙ্কর। বর্ষায় ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার পরিস্থিতি কেমন, খতিয়ে দেখতে শুক্রবার আশিঘর এলাকায় পৌঁছোন তিনি। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে প্রায় গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। জমা জলে কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, খোঁজ নেন। তার মধ্যে এলাকায় তোলাবাজি, গুন্ডামি নিয়ে অভিযোগের কথা মন্ত্রীর কানে পৌঁছোয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার পরেই সোজা আশিঘর পুলিশ ফাঁড়িতে উপস্থিত হন মন্ত্রী।
আশিঘর পুলিশ ফাঁড়িটি ভক্তিনগর থানার অধীনস্থ। ওই থানার আধিকারিককে ডেকে কথা বলতে বলতে শঙ্কর হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘যা অভিযোগ রয়েছে, তার নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। আমাকে যেন দ্বিতীয় দিন আসতে না হয়। আসতে হলে কী হবে, তা আমিও জানি না৷’’
ওই থানা এলাকায় জমি মাফিয়া থেকে বালি মাফিয়া নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও ওই ছবির পরিবর্তন হয়নি। ওই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে আশিঘর পুলিশ ফাঁড়িতে। কিন্তু পুলিশ পদক্ষেপ করেনি বলেই অভিযোগ। শুক্রবার রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, ‘‘ওঁরা যদি ভাবেন যে বিগত সরকারের সময়ে যেমন কাজ করতেন, এখনও তা-ই করবেন, সেটা হবে না। দুর্নীতি নিয়ে জ়িরো টলারেন্স আমাদের। এটা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীও বলেছেন। আবার শমীকদাও (ভট্টাচার্য, বিজেপি রাজ্য সভাপতি) বলেছেন।’’
এলাকা পরিদর্শন সেরে পর্যটন মন্ত্রী জানান, বর্ষাকালে ডাবগ্রামের দু’-তিনটে রাস্তার হাল খুব খারাপ। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে তাঁর। শঙ্কর বলেন, ‘‘এই বর্ষার সময় রাস্তা তৈরি করা মানে রাস্তা জলে দিয়ে দেওয়া। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি , পুজোর আগে যাতে রাস্তার কাজ শুরু করা যায়। পাশাপাশি পুলিশ-প্রশাসন বা ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে কী কী সমস্যা রয়েছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।’’