Suvendu Adhikari’s PA Murder

চন্দ্রনাথকে খুনের আগে-পরে ওই অঞ্চলে কোথা থেকে কার কাছে ফোন এসেছিল, মোবাইল সূত্র থেকে খতিয়ে দেখছে পুলিশ

বুধবার রাত সওয়া ১০টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় আটকানো হয় চন্দ্রনাথের গাড়ি। আচমকাই পিছন থেকে এসে চন্দ্রনাথের গাড়ির আড়াআড়ি ভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে ভুয়ো নম্বরপ্লেটের গাড়িটি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ১৩:৩৪
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে মোবাইল ফোনের সূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে মোবাইল ফোনের সূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

Advertisement

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের আগে এবং পরে ওই অঞ্চলে কোথা থেকে, কার ফোন গিয়েছিল, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের পরিভাষায় এই ধরনের তদন্তকে ‘কল ডাম্প’ বা ‘টাওয়ার ডাম্প’ বলা হয়। এই ব্যবস্থায়, একটি নির্দিষ্ট সময়ে, কোনও নির্দিষ্ট এলাকার টাওয়ারে কোথা থেকে কার ফোন গিয়েছিল, তা ফোন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছে জানতে চাইতে পারে পুলিশ।

ইতিমধ্যেই সিসি ক্যামেরার বেশ কয়েকটি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। একটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, খুনের ঘটনার আগে চন্দ্রনাথের গাড়ি যাচ্ছে। কিছুটা তফাতে থেকে পিছনে বাইক নিয়ে যাচ্ছেন দুই যুবক। (তবে এই ফুটেজগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)

অন্য দিকে, ব্যবহৃত গাড়ির নম্বরপ্লেট এবং ইঞ্জিন (শ্যাসি) নম্বর ভুয়ো। প্রাথমিক তদন্তে এমনই জানতে পেরেছে পুলিশ। বুধবার রাত সওয়া ১০টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় আটকানো হয় চন্দ্রনাথের গাড়়ি। আচমকাই পিছন থেকে এসে চন্দ্রনাথের গাড়ির আড়াআড়ি ভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে ভুয়ো নম্বরপ্লেটের গাড়িটি।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, গাড়িটি শিলিগুড়ির আরটিও-তে নথিভুক্ত রয়েছে। শিলিগুড়িতে গাড়ির মালিক উইলিয়াম জোসেফকে মাটিগাড়া থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শিলিগুড়ির বাসিন্দা জোসেফ দাবি করেন যে, তাঁর গাড়িটি শিলিগুড়িতেই রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তার পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, গাড়ির নম্বরপ্লেট নকল করে খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এমনকি গাড়ি থেকে ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে শ্যাসি নম্বর।

জোসেফ জানিয়েছেন, গাড়িটি বিক্রির জন্য তিনি ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। মাটিগাড়া থানার পুলিশ গাড়িটি পরীক্ষা করে দেখে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, খুনের প্রায় ৬ ঘণ্টা আগে এলাকায় ঢুকেছিল গাড়িটি। বেশ কিছু জায়গায় ঘোরাঘুরি করে সেটি। এমনকি রেকিও করা হয় চন্দ্রনাথের বাড়ির সামনে। পুলিশের অনুমান, অনেক দিন ধরেই চন্দ্রনাথকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যার তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এই তদন্তকারী দলে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি সিআইডি-র আধিকারিকেরাও রয়েছেন। তবে কত জন সদস্যকে নিয়ে এই সিট গঠিত হয়েছে, কোন আধিকারিকেরা এই তদন্তকারী দলে রয়েছেন, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়।

বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে। গাড়িতে সেই সময়ে তাঁর সঙ্গে আরও একজন ছিলেন। তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। দু’জনকেই প্রথমে মধ্যমগ্রামের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর জনকে কলকাতায় বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। নিহত চন্দ্রনাথের দেহ বুধবার রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের মর্গে।

Advertisement
আরও পড়ুন