Osman Hadi Murder Case

হাদি-খুনে অভিযুক্তদের সীমান্ত পার করতে সাহায্য করেছিলেন, এ বার সেই দালাল গ্রেফতার শান্তিপুরে

দিন কয়েক আগে রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন হাদি-খুনে দুই অভিযুক্ত ফয়সাল এবং আলমগীর। এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃতদের জেরা করে উঠে এসেছে ওই দালালের নাম।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪২
One more Bangladeshi arrested by West Bengal police STF who linked with Osman Hadi case

নিহত ছাত্রনেতা ওসমান হাদি। — ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যায় ধৃত দুই অভিযুক্ত ফয়সাল মাসুদ করিম এবং আলমগীর শেখ। সীমান্ত পার করতে সাহায্য নিয়েছিলেন এক দালালের। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) হাতে গ্রেফতার হলেন সেই দালাল।

Advertisement

দিন কয়েক আগেই রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ফয়সাল এবং আলমগীর। বনগাঁ থেকে তাঁদের ধরা হয়েছিল। এসটিএফ সূত্রে খবর, ফয়সালদের জেরা করে উঠে এসেছে ওই দালালের নাম। ফিলিপ সাংমা নামে ওই দালাল বাংলাদেশের হালুরঘাটে থাকতেন। হাদি-খুনে নাম জড়ানোর পরই ফয়সাল এবং আলমগীর যোগাযোগ করেন ফিলিপের সঙ্গে। তাঁর সাহায্যেই অবৈধ ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে ঢুকে পড়েন ফয়সালেরা।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার ভোরে শান্তিপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ফিলিপকে। জেরায় তিনি স্বীকার করেছেন, টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশের হালুরঘাট এবং মেঘালয়ের ডালুপাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে লোকেদের পারাপার করান। একই ভাবে তাঁর সাহায্যে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন ফয়সালেরাও।

হাদি-খুনে অভিযুক্তদের খোঁজে যখন বাংলাদেশে তোলপাড় শুরু হয়, তখন ফিলিপও হালুরঘাট-ডালুপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে আসেন। জেরায় ধৃত দালাল আরও জানিয়েছেন, বিগত কয়েক দিন ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। বার বার বদলেছেন আস্তানাও। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে আবার ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ফিলিপ। একই পরিকল্পনা ছিল ফয়সালদেরও। তবে তার আগেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন তিন জনেই। শনিবার ধৃত ফিলিপকে আদালতে হাজির করানো হয়। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে।

গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ৩২ বছরের হাদিকে গুলি করে খুন করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যু হয় বাংলাদেশের ওই তরুণ নেতার। হাদির মৃত্যু ঘিরে অশান্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। হাদি-খুনে বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যে চার্জশিট দিয়েছিল, তাতে ফয়সাল এবং আলমগীরকে ‘মূল অভিযুক্ত’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁরাই গ্রেফতার হন বনগাঁতে।

কলকাতাস্থিত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কলকাতা পুলিশের কাছে ধৃতের সম্পর্কে আরও তথ্য চেয়ে আর্জি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ধৃতের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ চেয়ে নয়াদিল্লিকে অনুরোধও জানিয়েছে বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন।

Advertisement
আরও পড়ুন