Higher Secondary Examination 2026

অঙ্কে দশ, পাশ করতে বাকি দুই-ও পাচ্ছে না অনেকে!

অঙ্কের এক শিক্ষক জানান, এ বারের পরীক্ষায় অঙ্কের বিতর্কিত প্রশ্নগুলির মধ্যে একটি ছিল ২ নম্বরের, অন্যটি ৮ নম্বরের। খাতা দেখার ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ নির্দেশ দিয়েছে, যারা এই দু’টি প্রশ্নের উত্তর লেখার চেষ্টা করেছে, তাদের সবাইকে ১০ নম্বর দিয়ে দিতে হবে।

আর্যভট্ট খান
শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৪

—প্রতীকী চিত্র।

উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সিমেস্টারে বহু বিষয়েই পাশ নম্বর উঠছে না। খাতা দেখতে গিয়ে এমনই জানাচ্ছেন পরীক্ষকদের একাংশ। প্রসঙ্গত, চতুর্থ সিমেস্টারে যে সব বিষয় পরীক্ষাগার-ভিত্তিক নয়, সেগুলিতে পরীক্ষা হয়েছে ৪০ নম্বরে। পাশ নম্বর ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ১২। অন্য দিকে, যে সব বিষয় পরীক্ষাগার-ভিত্তিক, সেগুলিতে পূর্ণমান ৩৫। সেখানে পাশ নম্বর ১১। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ১১ বা ১২ পাচ্ছে না, এমন বহু পরীক্ষার্থী রয়েছে। এ-ও দেখা যাচ্ছে, অঙ্কে দু’টি প্রশ্ন পাঠ্যক্রমের বাইরে থেকে আসায় প্রায় সব পরীক্ষার্থীকে ১০ নম্বর দিয়ে দেওয়া হলেও কেউ কেউ বাকি মাত্র ২ নম্বরও তুলতে পারছে না। অনেকেই মনে করছেন, চতুর্থ সিমেস্টারে ছ’মাসের জায়গায় মাত্র তিন থেকে চার মাস প্রস্তুতির সময় পাওয়ায় এই পরিস্থিতি।

অঙ্কের এক শিক্ষক জানান, এ বারের পরীক্ষায় অঙ্কের বিতর্কিত প্রশ্নগুলির মধ্যে একটি ছিল ২ নম্বরের, অন্যটি ৮ নম্বরের। খাতা দেখার ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ নির্দেশ দিয়েছে, যারা এই দু’টি প্রশ্নের উত্তর লেখার চেষ্টা করেছে, তাদের সবাইকে ১০ নম্বর দিয়ে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে ওই পরীক্ষার্থীদের পাশ করতে হলে পেতে হবে আর ২ নম্বর। আবার, যারা ২ নম্বরের বিতর্কিত প্রশ্নটি লেখার চেষ্টা করেনি, তাদের অঙ্কে পাশ করতে গেলে পেতে হবে ৮ নম্বর। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই নম্বরও পাচ্ছে না অনেকে।

এমন পরিস্থিতি কেন? এক অঙ্কের শিক্ষক বলেন, ‘‘খাতায়কলমে চতুর্থ সিমেস্টারের জন্য সময় থাকে ছ’মাস। সেই সময়টা ছাত্রছাত্রীরা পায়নি। পুরনো উচ্চ মাধ্যমিকে টেস্ট হত। সিমেস্টার পদ্ধতিতে টেস্ট উঠে গিয়েছে। তারা কতটা তৈরি হল, তা বুঝতে পারেনি পরীক্ষার্থীরাই। অনেকে সময় মতো পাঠ্যবইও পায়নি।’’

বাংলার এক শিক্ষিকা বলেন, ‘‘খাতা দেখতে গিয়ে চোখে পড়ছে, অনেকে প্রশ্নগুলি টুকে দিয়েছে। ওরা ভেবেছে, কিছু লিখে দিলেই বোধহয় নম্বর পাওয়া যাবে।’’ তিনি জানান, কিছু পরীক্ষার্থী জানিয়েছে, চতুর্থ সিমেস্টারে সময় কম পাওয়ায় তারা পাঠ্যবই কেনেনি। সাজেশন বই পড়ে পরীক্ষা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, ‘‘তৃতীয় সিমেস্টারে এমসিকিউ উত্তর লিখতে হয়। আমাদের ধারণা, সেখানে অনেকে একে অন্যকে জিজ্ঞাসা করে পাশ নম্বর পেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, চতুর্থ সিমেস্টারে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়েছে। ফলে, যারা ঠিক মতো প্রস্তুতি নেয়নি, তাদের খামতি ধরা পড়ে যাচ্ছে।’’

তিনি জানাচ্ছেন, দ্বিতীয় সিমেস্টারে বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়েছিল। তবে, সেখানে এক বারে পাশ না করলেও সাপ্লিমেন্টারি দেওয়ার সুযোগ ছিল। চতুর্থ সিমেস্টারে তা নেই। সৌগত বলেন, ‘‘আমরা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, চতুর্থ সিমেস্টারেও সাপ্লিমেন্টারি চালু করা হোক। তা দ্রুত শুরু করার আবারও দাবি জানাচ্ছি।’’

আরও পড়ুন