—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
রাজ্যের এক রাজনৈতিক নেতার আত্মীয়া এক নাবালিকা কন্যাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে তাঁর দেহরক্ষী পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে আলিপুর বিশেষ পকসো আদালতে চার্জশিট পেশ করল পুলিশ। অভিযুক্তকে হেফাজতে রেখে বিচার প্রক্রিয়া চালু রাখার আবেদন করা হয়েছে বলেও আদালত সূত্রে খবর। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যৌন হেনস্থা ও মারধর এবং বিশেষ পকসো আইনের ৮ ও ১০ ধারায় অভিযোগ দায়ের করে সম্প্রতি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে খবর, গত ৩১ মে সন্ধ্যায় ওই মেয়েটি নিজের ঘরে পড়াশোনা করছিল। তখনই অভিযুক্ত তার সঙ্গে অভব্য আচরণ করে বলে চার্জশিটে প্রকাশ। মেয়ের চিৎকারে ছুটে এসে তাঁর মা-ও নিগৃহীত হন বলে পুলিশের চার্জশিটে উঠে এসেছে। দাবি, মা ও মেয়ের চিৎকারে বাড়িতে থাকা পরিচারক-পরিচারিকারা তাঁদের উদ্ধার করেন। ওই নেতা তখন বাড়ি ছিলেন না। তাঁকে ফোন করা হয়। থানায়খবর দেওয়া হলে রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট পরিবারটির সূত্রে জানা গিয়েছে, দেহরক্ষী পুলিশকর্মীটি কয়েক বছর ওই নেতার কাছে ডিউটি করছে। ওই দিন সে অসুস্থ বলে নেতার সঙ্গে যায়নি। অভিযোগ, বিকেলের পর থেকে নিজের ঘরে মদ্যপান করার পরে সে ছোট মেয়েটিকে হেনস্থা করে। মেয়েটির মা বলেন, “তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে সে পুলিশের কর্তাদের ফোন করে স্পিকার চালু রেখে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে আমাদের কার্যত শাসানি দিচ্ছিল। এমনকি, ওই রাতে থানায় যাওয়ার সময়ে বয়ান নেওয়ার জন্য কোনও মহিলা অফিসার ছিলেন না। পুলিশ গোড়ায় দায়সারা ভাবে অভিযোগ লিখছিল। বিষয়টি আদৌ গুরুত্ব না দিয়ে ধামাচাপা দিতে চাইছিল। তখন বাধ্য হয়ে আমি প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সবটা জানাই। এর পরেই পুলিশের ভূমিকায় বদল আসে।” অতীতে আর জি কর-কাণ্ডেও পুলিশের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ মনে করিয়েছেন মহিলা। তাঁর দাবি, এ অনেকটা পুলিশের পুরনো রোগ! প্রশাসনের উপরতলার নির্দেশেই প্রয়োজনীয় বয়ান নিয়ে মেডিক্যাল ও ফরেন্সিক পরীক্ষায় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে পুলিশ তৎপর হয়।
চার্জশিটে পুলিশের দাবি, ওই দিনের ঘটনায় নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তার মায়ের বয়ানও নেওয়া হয়েছে। বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজে অভিযুক্তের কীর্তি স্পষ্ট বলেও পুলিশ আদালতে জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দরকারি মেডিক্যাল ও ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে তদন্তকারী অফিসারের দাবি, এখনও ওই ঘটনার তদন্তে কিছু ফরেন্সিক রিপোর্টআসা বাকি। পরে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
মামলার সরকারি আইনজীবী বলেন, “এ তো রক্ষক ভক্ষকের আচরণ করেছে। অভিযুক্ত একজন পুলিশকর্মী। সে তার প্রভাব খাটানোরও চেষ্টা করেছে। তাকে হেফাজতে রেখে বিচারের পরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দরকার আছে। সেই মতোবিচারকের কাছে আবেদনকরা হয়েছে।”