পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার পর সম্প্রতি এই রাজ্য নতুন পরিবহণ মন্ত্রী পেয়েছে। ফলে আশা করা যায় এ বার রাজ্যের পরিবহণের বেহাল দশার কিছুটা উন্নতি হবে। প্রাক্তন শাসক দলের আমলে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থার কী হয়েছে, তা আমরা দেখেছি। পেট্রল ও ডিজ়েলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকারি বাসে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ, যাত্রীদের অভিজ্ঞতা বলে, বেসরকারি বাসগুলিতে বেশ কিছু রুটে গত কয়েক বছরে বর্ধিত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। এমনকি, বর্ধিত ভাড়ার কোনও তালিকাও যাত্রীদের সুবিধার্থে টাঙানো হয়নি। ফলে একই রুটে কম ভাড়া নেওয়া সরকারি বাসগুলিকে লোকসানের মুখ দেখতে হয়েছে। তার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট দেখা গিয়েছে তাদের কঙ্কালসার দশাতেই।
আবার এই একই সময়ে বা তারও আগে থেকেই কলকাতায় হলুদ ও ‘যাত্রী সাথী’ ট্যাক্সি মিটার অনুযায়ী ভাড়া নেওয়ার প্রক্রিয়া তুলে দিয়েছে। প্রথম দিকে অ্যাপ ক্যাব আসার পরে কিছুটা সংযত হয়েছিলেন হলুদ ট্যাক্সিচালকরা। কিন্তু এর পর যখন অ্যাপ ক্যাবগুলিও বাজার ধরে ফেলে ভাড়া বাড়ানোর খেলায় মাতল, তখন হলুদ ট্যাক্সিগুলিও নিজেদের পুরনো রূপে ফিরল। আর এখন রাজ্য সরকারের ‘যাত্রী সাথী’ অ্যাপ ক্যাবও সেই পথেই হাঁটছে। দেখতে গেলে, এখন শহরে যে কোনও ট্যাক্সিই নিজেদের মর্জির মালিক। এমনিতেই অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া এখন বেশ চড়া, তার উপর বিনা মিটারে যাওয়া যেন একপ্রকার চল হয়ে গিয়েছে। সামান্য দূরত্ব যেতেও এরা ১৫০-২০০ টাকার কম হাঁকে না। দেশের অন্যান্য শহরেও কি এমন গাজোয়ারি করা হয়? মনে হয় না।
তাই নতুন পরিবহণ মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, সরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানো হোক, যাতে সেগুলি লোকসানহীন ভাবে চলতে পারে। তবে ভাড়া যেন যাত্রীদের আয়ত্তের মধ্যে থাকে সেটিও দেখতে হবে। অন্য দিকে, বেসরকারি বাসগুলি যাতে মর্জিমাফিক ভাড়া আদায় না করে, সে বিষয়টিতেও কড়া নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে হলুদ ট্যাক্সিগুলিতে নতুন ভাড়ার মিটার লাগানো এবং সেই অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হোক। যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয় যেখানে জড়িয়ে, সেখানে সরকারের নজর তো থাকতেই হবে।
মিনতি ধর, শিবপুর, হাওড়া
হোর্ডিং সমস্যা
শহরের রাস্তাগুলি এখন যাতায়াতের পথের চেয়ে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের আদর্শ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক প্রচারের দোহাই দিয়ে ব্যস্ত মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে স্থাপিত বিশালাকার হোর্ডিং বর্তমানে পথনিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মুনাফার লোভে জননিরাপত্তাকে যে ভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যেমন, ব্যস্ত রাস্তায় দ্রুতগতির গাড়ির চালকের চোখের সামনে উজ্জ্বল রং ও চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি অবচেতন ভাবেই মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে। মুহূর্তের এই অন্যমনস্কতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্য যথেষ্ট। বিশেষত, রাতের বেলায় হাই-ডেফিনিশন এলইডি হোর্ডিংগুলি থেকে নিঃসৃত তীব্র আলো চালকের দৃষ্টিশক্তিকে সাময়িক ভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এর ফলে অনেক সময়েই তাঁরা ট্র্যাফিক সঙ্কেত বা রাস্তার বাঁক ধরতে পারেন না।
অনেক ক্ষেত্রে হোর্ডিংগুলি এমন ভাবে বসানো হয়েছে, যা ট্র্যাফিক চিহ্ন, পথনির্দেশিকা কিংবা সিগন্যাল পোস্টকে আড়াল করে দিচ্ছে। এটি চালকদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনকেও উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে নীতিমালার অভাব না থাকলেও, তা প্রয়োগের বিষয়ে চরম উদাসীনতা রয়েছে।
বাণিজ্যিক স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে হোর্ডিং বসানোর অনুমতি প্রদানের ফলে রাস্তাগুলি এখন ‘দৃশ্যদূষণ’-এর শিকার। তাই প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন— দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা করার মানসিকতা ত্যাগ করে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ করা হোক। ট্র্যাফিক সিগন্যালের নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের মধ্যে যে কোনও ধরনের বাণিজ্যিক হোর্ডিং নিষিদ্ধ করা, রাতের বেলায় আলোর তীব্রতা বেঁধে দেওয়া এবং ব্যস্ত মোড়গুলি থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হোর্ডিং অবিলম্বে সরানো হোক।
দেবাশিস চক্রবর্তী, মাহেশ, হুগলি
নিরাপদ পারাপার
কামারহাটি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়র্ডের নরেন্দ্রনগর পাড়ার ঠিক সামনে বি টি রোডের ও-পারে ব্যাঙ্ক, কলকাতা পুলিশের আবাসন, পুরসভার অফিস, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারি দফতর ও ব্যারাকপুরগামী বাস স্টপ অবস্থিত। দীর্ঘ দিন ধরে এই জায়গাটি পথচারীদের রাস্তা পারাপারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল। কিন্তু সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ এই ক্রসিংটি পাকাপাকি ভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এখন রাস্তা পার হতে হলে বামে বা ডানে প্রায় ২০০ মিটার দূরে গিয়ে পারাপার করতে হয়। ফলে প্রবীণ থেকে স্কুলপড়ুয়া— সবারই কোনও না কোনও ভাবে অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া নীলগঞ্জ রোড ও বি টি রোডের সংযোগস্থল এবং বি টি রোড ও টেগোর রোডের সংযোগস্থলে অত্যধিক যানবাহনের চাপের মধ্যে প্রাণ হাতে নিয়ে রাস্তা পারাপার করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।
আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে নরেন্দ্রনগর পাড়ার সামনে পথচারীদের জন্য ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করবেন। প্রয়োজনে সিগন্যাল বা ওভারব্রিজের মতো স্থায়ী সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হোক।
রবিশংকর রায়, নরেন্দ্রনগর, উত্তর ২৪ পরগনা
নালা সংস্কার
কিছু দিন আগে টালি নালা থেকে বর্জ্য সরানো হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই সেটি পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে। স্মরণীয়, শহিদ ক্ষুদিরাম সংলগ্ন বাইপাসের পর থেকে গড়িয়া স্টেশন হয়ে গঙ্গা জোয়ারা বা তার পরেও খাল সঙ্কীর্ণ থেকে সঙ্কীর্ণতর হয়েছে। ফলে মাঝেমধ্যে অতি বৃষ্টি বা ভরা কোটালে রাস্তা উপচে জলমগ্ন হয় রাস্তার দু’পারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আসলে প্লাস্টিক, থার্মোকল, দু’পাশের কিছু বাড়ির নিত্য ব্যবহার্য আবর্জনা, এমনকি নার্সিংহোমের স্তূপীকৃত বর্জ্য ফেলা হয় এখানেই। জায়গাটি মশা-মাছির আঁতুড়ঘর হয়ে অন্তহীন দুর্ভোগে নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নজরদারির খুব প্রয়োজন। আবর্জনা ফেললেই মোটা টাকা জরিমানা করা হোক।
তবে সর্বাগ্রে সচেতনতা জরুরি। এ বিষয়ে স্থানীয় দোকানদার, বাজার কমিটির সদস্য, সমাজকর্মী ও পুরসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। সচেতন হওয়ার সময় এখনও কি আসেনি?
সূর্যকান্ত মণ্ডল, কলকাতা-৮৪
জল যন্ত্রণা
বেলুড় স্টেশনের রেলওয়ের আন্ডারপাসে জল জমে থাকা বহু দিনের সমস্যা। সামান্য থেকে ভারী কিংবা অতি ভারী বৃষ্টি হলে স্টেশনের আন্ডারপাসে জল জমে যাতায়াতের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, অবিলম্বে আন্ডারপাসের জল নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার করা হোক।
তাপস দাস, সিঙ্গুর, হুগলি
বেআইনি নির্মাণ
এত দিন ধরে পুরসভাগুলি যে বেআইনি বাড়ি তৈরিতে মদত দিয়েছে, সেটা স্পষ্ট। তাই এত দুর্ঘটনা। সব বেআইনি বাড়ি ভাঙা সম্ভব না, কারণ বেশির ভাগ ফ্ল্যাটই সারা জীবনের সম্বল দিয়ে মানুষ কিনেছেন। একেবারে বেআইনি না হলে এ সবের প্রোমোটারদের কাছ থেকে জরিমানা নিয়ে বাড়িগুলিকে আইনসম্মত করা যায় কি না, সরকার ভাবতে পারে। এতে রাজস্ব বাড়বে।
সৌমিত্র সেনগুপ্ত, ভদ্রেশ্বর, হুগলি