কলকাতা পুলিশে ড্রোনের জন্য পৃথক বিভাগ রয়েছে। তাদের অধীনে রয়েছে সাতটি ড্রোন, যা নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হয়। —প্রতীকী চিত্র।
শহরের আকাশপথে বেআইনি ড্রোনের নজরদারির ঝুঁকি এড়াতে এ বার ড্রোন প্রতিরোধক ব্যবস্থা কিনতে চাইছে লালবাজার। ইতিমধ্যেই ওই ব্যবস্থা কেনা নিয়ে কলকাতা পুলিশের অন্দরে এক প্রস্ত আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাব আকারে সেই আলোচনার নির্যাস রাজ্য প্রশাসনের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা কেনা হবেই কিনা, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই জানিয়েছে পুলিশের একাংশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, আকাশপথে যে কোনও দিক থেকে কোনও ড্রোন চলে এলে সেটির সিগন্যাল স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ করে দেয় ড্রোন প্রতিরোধক এই ব্যবস্থা। ফলে বেআইনি ভাবে ওড়ানো ড্রোনটি আর কাজ করবে না। এমনকি, সেটি নামিয়েও আনা যাবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানের পাঠানো ড্রোনের ঝাঁককে আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারতের বিমান প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
সূত্রের খবর, দক্ষিণ ভারতের কিছু রাজ্যে ড্রোন প্রতিরোধক ব্যবস্থা আছে। কী ভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা, তা জানার জন্য কলকাতা পুলিশের একটি দলের সংশ্লিষ্ট রাজ্যে যাওয়ার কথা। কিছু দিন আগে দিল্লির একটি সংস্থা কলকাতায় এসেছিল ড্রোন প্রতিরোধক ব্যবস্থার নমুনা দেখাতে। সেই নমুনা অবশ্য বাতিল হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
গত ১৯ মে রাতে কলকাতার আকাশে কয়েকটি জায়গায় আলোর ঝলকানি দেখা যায়। খুঁটিয়ে লক্ষ করে পুলিশ বুঝতে পারে, সেগুলি আদতে ড্রোন। যা আকাশে চক্কর কাটছিল। ওই দিন বন্দর এলাকার আকাশে প্রথম ড্রোনগুলি দেখা যায়। পরে সেগুলিকে ব্রিগেডের উপর দিয়ে উড়ে যেতে দেখা যায় উত্তর এবং পূর্বের দিকে। অভিযোগ, কলকাতার আকাশে ‘রেড জ়োন’, অর্থাৎ সেনাবাহিনীর বিজয় দুর্গের (সাবেক ফোর্ট উইলিয়াম) আশপাশে উড়েছে ওই ড্রোনগুলি। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট জ়োনে ড্রোন জাতীয় কিছু ওড়ানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার পরেও সেগুলি ওড়ায় রহস্য দানা বাঁধে।
কলকাতা পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, এই ঘটনার পরেই শীর্ষ কর্তারা নড়ে বসেন। শহরের আকাশকে বেআইনি ড্রোনের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে ড্রোন প্রতিরোধক ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।
প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, ড্রোন প্রতিরোধক ব্যবস্থা কেনা হলে সেটি নিয়ে কাজ করার জন্য পুলিশের পৃথক দল গড়া হবে। কোনও বেআইনি ড্রোন আটকানোর পরে কোথা থেকে সেটি এসেছিল, তা খুঁজে বার করার দায়িত্ব থাকবে ওই দলের উপরে। বর্তমানে কলকাতা পুলিশে ড্রোনের জন্য পৃথক বিভাগ রয়েছে। তাদের অধীনে রয়েছে সাতটি ড্রোন, যা নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হয়। ড্রোন প্রতিরোধক ব্যবস্থা কেনা হলে কলকাতা পুলিশের কর্মীদের নতুন করে প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।