যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসির সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। — ফাইল চিত্র।
মেসি-কাণ্ডে আবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে তলব করল বিধাননগর দক্ষিণ থানা। অতীতে একাধিক বার তাঁকে তলব করা হয়েছিল। বেশ কয়েক বার হাজিরা এড়ালেও গত ১৮ জুন থানায় গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ ক্ষণ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার ঘটনার আবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে নোটিস পাঠাল পুলিশ। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টায় তলব করা হয়েছে। তিনি আবার হাজিরা দেন কি না, সেটাই দেখার।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় পুলিশের নজরে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার সূত্র ধরে অরূপকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে কয়েক বার ডেকে পাঠায় পুলিশ। কিন্তু হাজিরা এড়িয়েছেন বার বার। রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। আদালত প্রথমে তাঁকে ২ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেয়। রক্ষাকবচ পাওয়ার পরেই হাজিরা দেন তিনি।
কলকাতা হাই কোর্টের একক বেঞ্চের রক্ষাকবচ দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শতদ্রু দত্ত। যুবভারতীতে আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন তিনি। যুবভারতী কাণ্ডে তিনিও অন্যতম অভিযুক্ত। ঘটনার দিনই গ্রেফতার হয়েছিলেন। বর্তমানে জামিনে মুক্ত। ডিভিশন বেঞ্চে শতদ্রুর আবেদন ছিল, অরূপের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছে না। যদিও শতদ্রুর আপত্তি কানে তোলেনি ডিভিশন বেঞ্চ। বহাল রাখে অরূপের রক্ষাকবচের নির্দেশ।
গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন মেসি। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন অরূপ। তাঁর ঘনিষ্ঠেরাও ছিলেন মেসিকে ঘিরে। পরিস্থিতির জেরে কয়েক মিনিটের মধ্যে মেসি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর তীব্র সমালোচনার জেরে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অরূপ। অরূপের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শতদ্রু। তিনি আদালতে দাবি করেছেন, মোট ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল মেসির সফরের জন্য। শতদ্রুর দাবি, তার মধ্যে ২২ হাজার টিকিট অরূপ একাই নিয়ে নিয়েছিলেন। অন্যত্র তা বিক্রিও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে অরূপকে নোটিস দিয়েছিল পুলিশ।