—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানি-পর্বে মৃত্যু হল মালদহের এক বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও)। মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ ওই বিএলও সম্পৃতা চৌধুরী সান্যালকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়িকর্মী ওই বিএলও-র পাশাপাশি পথ-দুর্ঘটনায় মালদহেরই এক ভোটারের মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পরপর এই মৃত্যু নিয়ে তরজায় সরব হয়েছে রাজ্যের বিরোধী ও শাসক দল।
এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে এ দিন দক্ষিণ দিনাজপুরে মৃত ওছমান মোল্লার বাড়িতে গিয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বালুরঘাট বিমানবন্দরে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পরে তিনি বলেন, ‘‘বিশেষ নিবিড় সংশোধনী শুরু হওয়ার পর থেকে মানুষ আতঙ্কে। এখনও পর্যন্ত অনেকে মারা গিয়েছেন রাজ্যে।’’ বিজেপির উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আপনারা ক’জনের বাড়ি গিয়েছেন?’’ পাশাপাশি, এ দিনই কলকাতায় রাজ্যের চার মন্ত্রী-সহ একটি প্রতিনিধিদল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে একগুচ্ছ দাবি জানিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘‘শুনানিতে মৃত্যু ও হয়রানি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সম্পর্কে সিদ্ধান্তগ্রহণের জন্য সিইও-র দফতরকে আমরা দু’দিন সময় দিয়েছি।’’
মৃত্যু ও শুনানি ঘিরে এ সব অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। হাবরায় দলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল এখন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘বিভিন্ন থানার অফিসার ও সাইবার অপরাধ বিভাগ সিএএ নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। ভুলে যাচ্ছেন, সরকার বদলাবে। তাঁদের পুলিশ পরিচয় বদলাবে না।’’ এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বললেন, এসআইআর মানবেন না। পরে অংশ নিলেন।’’
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এসআইআর বিতর্ক চরমে উঠেছিল। সেই তর্ক বহাল রয়েছে এ দিনও। মালদহের ইংরেজবাজারের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাকুরতলা এলাকায় এ দিন সকালে মারা গিয়েছেন বিএলও সম্পৃতা (৪৮)। তাঁর বাড়িতে যান ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের পুর-প্রতিনিধি গায়ত্রী ঘোষ। সম্পৃতা ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের অঙ্গনওয়াড়ির কর্মী ছিলেন। মৃতার পরিবারের দাবি, রাত জেগে তাঁকে ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজ করতে হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার রাতে কাজ করতে করতে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
মালদহে মোটরবাইক থেকে পড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যুতেও উঠেছে এসআইআর-আতঙ্কের প্রসঙ্গ। হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা সাবেরা বিবি (৮০)। শুনানির নথি জোগাড় করতে যাওয়ার সময়ে ছেলের মোটরবাইক থেকে পড়ে যান। বুধবার কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। পরিবারের দাবি, শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর থেকে বৃদ্ধা দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। বৃদ্ধার পরিবারকে সমবেদনা জানান মন্ত্রী তজমুল হোসেন। বর্ধমানে জেলাশাসকের কার্যালয়ে এসআইআরের শুনানির লাইনেই দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে অশোক শর্মা নামে এক ব্যক্তিকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়।
এই সব ঘটনাকে সামনে রেখে সিইও-র সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে সাংসদ পার্থ বলেন, ‘‘যুক্তির অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণে যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ডাকা হচ্ছে, তাঁদের শুনানি কী ভাবে সম্পূর্ণ করা সম্ভব? এ নিয়ে কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য জানতে চেয়েছি।’’
রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের অ্যাসিট্যান্ট প্রোগ্রাম অফিসারদের সংগঠনের তরফে এ দিন শুনানি প্রক্রিয়ার সময়সীমা জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে সিইও-র কাছে। প্রায় ৯০ জন এইআরও স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ওয়টসঅ্যাপে পাঠানো নির্দেশে কমিশনের নির্ধারিত নথিই গ্রহণ করতে নিষেধ করা হচ্ছে। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে এই রকম নির্দেশ লিখিত ভাবে দেওয়া হোক।