Pratik Ur Rahaman

শনিবার অভিষেকের হাত থেকে তৃণমূলের ঝান্ডা নেবেন প্রতীক, সেলিম বললেন, এমন কর্মীর যাওয়া সন্তান হারানোর সমতুল!

আনুষ্ঠানিক যোগদান না-হওয়া পর্যন্ত সিপিএম প্রতীক-উরের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করবে না বলেই ঠিক হয়েছে। শনিবার অভিষেকের মঞ্চে প্রতীক-উর জোড়াফুলের পতাকা হাতে নিলে তার পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁকে বহিষ্কারের পথে হাঁটবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১৫
Pratik-Ur Rahamn will join tmc Saturday

(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতীক-উর রহমান এবং মহম্মদ সেলিম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মাতৃভাষা দিবসে মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ছেড়ে মা-মাটি-মানুষের পথে ‘বিদ্রোহী’ সিপিএম নেতা প্রতীক-উর রহমান। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতীক-উরের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা। অভিষেকেরও থাকার কথা প্রতীক-উরের যোগদান কর্মসূচিতে। যদিও শুক্রবার রাত পর্যন্ত অভিষেকের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, আমতলায় অভিষেক যাবেন ‘দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠক’ করতে।

Advertisement

ঘটনাচক্রে, গত লোকসভা নির্বাচনে অভিষেকের বিরুদ্ধেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় সিপিএমের প্রতীকে লড়েছিলেন প্রতীক-উর। দু’বছর পরে তাঁর হাত থেকেই তৃণমূলের পতাকা নিতে চলেছেন সিপিএমের সঙ্গে বিচ্ছেদ-ঘটানো তরুণ নেতা। তৃণমূল সূত্রের খবর, অভিষেকের সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছে প্রতীক-উরের। যদিও প্রতীক-উর এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা সিপিএম মোটামুটি ধরেই নিয়েছে, প্রতীক তৃণমূলে যাচ্ছেন। কিন্তু একা তিনি নাকি সঙ্গে আরও কেউ কেউ যাচ্ছেন, সেই খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতীক-উর ঘনিষ্ঠদের দাবি, একাধিক এরিয়া কমিটির সম্পাদক, সদস্য এমনকি, সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্যেরাও প্রতীক-উরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে আনুষ্ঠানিক যোগদান না-হওয়া পর্যন্ত সিপিএম প্রতীক-উরের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করবে না বলেই ঠিক হয়েছে। শুক্রবার সিপিএমের রাজ্য কমিটির দু’দিনের বৈঠক শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বৈঠকে সে ভাবে প্রতীক-উরের প্রসঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে ‌শুক্রবার রাজ্য সম্পাদক সেলিম জানিয়েছেন, জবাবি ভাষণে তিনিই প্রতীক-উরের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তাঁর কথায়, ‘‘এই প্রসঙ্গ আমি যখন তুলি, আমার অনুভূতি ছিল সন্তান হারানোর শোকের মতো।’’ সেলিম বলেন, ‘‘যখন আমি রাজ্য সম্পাদক হয়েছিলাম, বলেছিলাম, আমাদের কাছে ৩০টা তেজি ঘোড়া আছে। আমি কয়েক বছরের মধ্যে ৩০০টা ঘোড়া করব। তার পর বলেছিলাম, ৩০০ হয়ে গিয়েছে। এখন ১,০০০-এর দিকে যেতে হবে। সেখানে এই ধরনের একজন কর্মীকে হারানোর প্রশ্ন উঠলে আমার কাছে তা সন্তানহারা হওয়ার সমতুল্য।’’

প্রতীক-উর রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি তো বটেই, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও আব্যাহতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করে চিঠি লিখেছিলেন। সিপিএমের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতীক-উরকে দল বহিষ্কার করতে পারত। কিন্তু সেই পথে না-হেঁটে কৌশলী সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য কমিটি। প্রতীক-উরের চিঠির পরে দলের একাংশ তাঁকে রাখবার জন্য সক্রিয় হয়েছিলেন। যোগাযোগ করেছিলেন প্রবীণ নেতা বিমান বসুও। দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও দেখা গিয়েছিল প্রতীক-উরের পক্ষে প্রকাশ্যে সওয়াল করছেন। কিন্তু আলিমুদ্দিন চেয়েছে বহিষ্কার না-করে ধরে রাখার চেষ্টা জারি রাখার বার্তা দিতে। সিপিএম নেতৃত্ব জানতেন প্রতীক-উরের পা পিছলে গিয়েছে। কিন্তু সিপিএম বার্তা দিতে চেয়েছে, দল হিসাবে তারা প্রতীকের হাত ধরে টেনে তুলতে চেয়েছে। কিন্তু তিনি উঠতে চাননি।

প্রতীক-উর এই পর্বে গত বুধবার প্রথম বিস্তারিত সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন আনন্দবাজার ডট কম-কে। তার পর ধারাবাহিক ভাবে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে নিশানা করেছেন রাজ্য সম্পাদক সেলিমকে। এমনকি, সেলিমকে ‘সিপিএমের গব্বর সিং’ বলেও আক্রমণ করেছেন ডায়মন্ড হারবারের এই তরুণ নেতা। শুক্রবার আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, ‘‘সূর্যকান্ত মিশ্রের সময়ে সিপিএমের মধ্যে কথা বলা যেত। প্রশ্ন করা যেত। কিন্তু সেলিম সিপিএমে কর্পোরেট সংস্কৃতি চালু করেছেন।’’ সেলিম অবশ্য বলেছেন, ‘‘মমতা-শুভেন্দু ল্যান্ডমাইন বসিয়েও সিপিএম-কে শেষ করতে পারেনি। মিডিয়ায় বসে স্ক্রিপ্ট আউড়ে সিপিএম-কে শেষ করা যাবে না!’’

Advertisement
আরও পড়ুন