PM Modi in Tarkeshwar

রাজ্যে আসার আগে বাংলায় পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাহাত্ম্য বর্ণনা প্রধানমন্ত্রীর, পোস্ট শাহেরও!

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে ঘটা করে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হচ্ছে। দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ তারকেশ্বরে পৌঁছোবেন প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১১:০৯
তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপন করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপন করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসার আগে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাহাত্ম্য বাংলায় বর্ণনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলায় পোস্ট করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। তারকেশ্বরে শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারীকেরা। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে হুগলির এই শহরকে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে।

Advertisement
তারকেশ্বরে সেজে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপনের মঞ্চ।

তারকেশ্বরে সেজে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপনের মঞ্চ। —নিজস্ব চিত্র।

১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছিল বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায়। তাই এই রাজ্যের ইতিহাসে দিনটি পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। এর নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শনিবারের অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হবে। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে ঘটা করে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হচ্ছে। দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ তারকেশ্বরে পৌঁছোবেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজ্যবাসীকে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে মোদী লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই রাজ্য সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে।’’ পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে মোদী লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসাবে থাকবে। এর নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান ছিল। ২০২৬ সালে আমরা তাঁর ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী পালন করছি।’’ রাজ্যের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। —নিজস্ব চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে শাহ লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে সকল রাজ্যবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পীঠস্থান এই বাংলা ভক্তি আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং নবজাগরণ থেকে শুরু করে দেশ গঠনের প্রতিটি পর্যায়ে অসামান্য অবদান রেখেছে। স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মহামানবদের এই পবিত্র ভূমি এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গৌরবময় ঐতিহ্য ও বৈভব পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে চলেছে।’’ মা দুর্গার কাছে রাজ্যবাসীর সুখ-সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনাও করেছেন শাহ।

মোদীর সফরকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরের বালিগড়ি মাঠে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। মোতায়েত করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিশেষ ভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চসজ্জার জন্য তাইল্যান্ড, তামিলনাড়ুর উটি থেকে আনা হয়েছে রঙবেরঙের ফুল। রয়েছে পর্যান্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও। তারকেশ্বর থেকে বিকেলে কলকাতায় চলে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। রাতে থাকবেন লোকভবনে। রবিবার সকালে রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচিতেও যোগ দেবেন তিনি। তার পর দিল্লিতে ফিরে যাবেন।

Advertisement
আরও পড়ুন