—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানিতে এক-একটি গ্রামের শ’তিনেক করে বাসিন্দাকে ডাকা, শুনানি কেন্দ্র দূরে হওয়ার অভিযোগে অবরোধ-বিক্ষোভ হল নানা এলাকায়। নির্বাচন কমিশনের নানা নির্দেশে হয়রানির অভিযোগে কিছু জায়গায় সরব হলেন বিএলও-রা। খসড়া তালিকায় অবৈধ ভোটারদের নাম থাকা নিয়ে আপত্তিসূচক ফর্ম জমা দিতে গিয়ে না পারার ক্ষোভে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। দুর্ঘটনায় জখম বিএলও সুশীলা রায়ের (৪০) মৃত্যু হয়েছে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে।
পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি এলাকায় এ দিন বর্ধমান-নবদ্বীপ রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন কয়েকশো বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, গ্রামের ২৮০ জনের শুনানির নোটিস এসেছে। শুনানি-কেন্দ্র গ্রাম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। হানিফ শেখ, রহমান মল্লিকদের প্রশ্ন, “চাষের মরসুমে এত দূরে শুনানিতে গিয়ে দিনভর বসে থাকা কি সম্ভব?’’ একই রকম অভিযোগে এ দিন ভাতার ব্লক অফিসের সামনে তৃণমূলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ও বর্ধমান-কাটোয়া রাস্তায় অবরোধ চলে। এক কর্মী অফিসে ঢুকতে গেলে বিক্ষোভকারীরা মারধর করে বলেও অভিযোগ। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সাহাজাদপুর পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করা হয়। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার জাটগড়িয়া গ্রামেও এক সঙ্গে ৩৭০ জনের শুনানির নোটিস আসা এবং কেন্দ্র দূরে হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিজেপির রাজ্যের সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালবীয়ের অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল সমর্থকেরা শুনানির ডাক পেয়ে রাস্তা অবরোধ, অগ্নিসংযোগ করছেন। এটি সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থার পতনের ইঙ্গিত।’’ তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘প্রতিটি আবেদনের উপযুক্ত শুনানি করতে হবে। এটা কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থরক্ষার বিষয় হতে পারে না। বিজেপির কোনও প্রশ্ন থাকলে জ্ঞানেশ কুমারের কাছে জানতে চাইছে না কেন?’’
পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের বেশ কিছু বিএলও এ দিন ব্লক অফিসে স্মারকলিপি দেন। তাঁদের অভিযোগ, তথ্যগত অসঙ্গতির ক্ষেত্রে বিএলও-রা অনুমোদন করে দিলে শুনানি হবে না বলে জানানো হয়েছিল। তার পরেও শুনানিতে ডাকায়, ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। মহকুমাশাসক (কাটোয়া) অনির্বাণ বসু বলেন, ‘‘দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’’ মুর্শিদাবাদে রানিনগরে জনা পঞ্চাশ বিএলও নানা রকম নির্দেশিকায় বিভ্রান্তির অভিযোগ তুলে গণইস্তফার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্লক অফিসে স্মারকলিপি দিয়ে। গলসিতেও মৌখিক অভিযোগ জানান কিছু বিএলও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ১ ব্লকের বিএলও-রা মিছিল করে ব্লক অফিসে স্মারকলিপি দেন।
ময়নাগুড়িতে শুক্রবার সকালে এসআইআরের কাজে বেরিয়ে দুর্ঘটনায় জখম হন বিএলও সুশীলা রায়। সোমবার বিকেলে শিলিগুড়ির এক নার্সিংহোমে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, কর্তব্যরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় পড়লেও প্রশাসনের তরফে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। মৃতার আত্মীয় পীযূষ রায়ের দাবি, “কাজের জন্য মানসিক চাপ ছিল। আইসিইউ-তে রাখলে হয়তো বাঁচানো যেত।’’ উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার হেলেঞ্চা গার্লস হাই স্কুলে শুনানিতে এসে মঙ্গলবার দু’জন অসুস্থহয়ে পড়েন।
খসড়া তালিকায় কিছু অবৈধ ভোটারের নাম থেকে গিয়েছে, এই অভিযোগ তুলে ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিতে এ দিন বসিরহাট ১ বিডিও-র কাছে যায় বিজেপি। তবে বিডিও তা নিতে অস্বীকার করেন বলে তাদের দাবি। বিডিও মন্তব্য করেননি। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, হুগলির চুঁচুড়া, চন্দননগর, আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। চন্দননগরে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের ধস্তাধস্তিও হয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামলায়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসছে বিএলও, ইআরও, এইআরও-রা ৭ নম্বর ফর্ম জমা নিচ্ছেন না। আমরা রাজ্যের সিইও মারফৎ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করছি, এই প্রক্রিয়া মসৃণ করুন। যদি এ ভাবে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়, তা হলে কিন্তু আমরা ভোট করতে দেব না।’’