Birbhum Incident

ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নানুরে! প্রধান শিক্ষককে ‘শাস্তি’ দিলেন এলাকাবাসী, করালেন কান ধরে ওঠবস

স্থানীয় সূত্রে খবর, ‘নির্যাতিতা’ ওই নাবালিকা বাড়িতে ফিরে পরিবারকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে। কন্যার মুখে অভিযোগ শুনে স্থানীয়দের কাছে অভিযুক্তের কীর্তি ‘ফাঁস’ করেন পরিবারের লোকেরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৮:২৪
Allegations arise that the headmaster of a school in Nanur was made to do sit-ups while holding his ears

—প্রতীকী ছবি।

নিজের স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় এবং অভিভাবকেরা। স্কুলে গিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে ‘শাস্তি’ দিলেন তাঁরা। স্কুলের ভিতর থেকে তাঁকে টেনে বার করে এনে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করালেন স্থানীয়েরা। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল বীরভূমের নানুরে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, ‘নির্যাতিতা’ ওই নাবালিকা বাড়িতে ফিরে পরিবারকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে। কন্যার মুখে অভিযোগ শুনে স্থানীয়দের কাছে অভিযুক্তের কীর্তি ‘ফাঁস’ করেন পরিবারের লোকেরা। সেই অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন সকলে। সকলে মিলে স্কুল ‘ঘেরাও’ করেন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। শুরু হয় বাদানুবাদ। পরে ওই জনতা প্রধান শিক্ষককে স্কুলের মধ্যে থেকে বাইরে মাঠে টেনে নিয়ে আসেন। তাঁকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। তার পরে দেখা যায়, ওই শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করান উপস্থিত জনতা। যদিও এই ঘটনা সম্পর্কে প্রশাসনের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতেও ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেগুলি প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। তবে সব অভিযোগই তদন্তসাপেক্ষ। স্কুলে উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় নানুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্কুলের বাইরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ প্রথমে বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তার পরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী ছাত্রীর পরিবারের তরফে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। পরিবারের দাবি, তারা আইনি প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ওই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ।

Advertisement
আরও পড়ুন