Bankura Clash

পথশ্রীর রাস্তা নিয়ে দুই পাড়ার সংঘর্ষ, পথের দাবিতে জখম পঞ্চায়েত সদস্যা-সহ আট! শোরগোল বাঁকুড়ায়

সংঘর্ষে আহত হন দুই পক্ষের মোট ৮ জন। ওই সময় স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা পাপিয়া রজকের উপরেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের কয়েক জনকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৩
Bankura Clash

সংঘর্ষের পরে হাসপাতালে দুই পাড়ার মহিলারা। —নিজস্ব ছবি।

পথশ্রী প্রকল্পের রাস্তা তৈরি কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়াল গ্রামের দুই পাড়া। সংঘর্ষে জখম হলেন অন্তত আট জন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যাও। বাঁকুড়ার জগদল্লা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিরামপুর গ্রামের ঘটনা।

Advertisement

হরিরামপুর গ্রামে সম্প্রতি রজক পাড়া এবং বাউড়ি পাড়ার মধ্যবর্তী একটি রাস্তা পাকা করার জন্য পথশ্রী প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। বাউড়ি পাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের গুরুত্ব না দিয়ে রাস্তা কেমন হবে, তা একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রজক পাড়ার বাসিন্দারা। ওই নিয়ে দিন তিনেক ধরে দুই পাড়ার বিবাদ চলছিল। এমনকি, পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। তখনকার মতো বিবাদ মিটে গেলেও আবার অশান্তি শুরু হয় রবিবার রাতে। বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা ‘পথশ্রী’র রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করলে দুই পাড়ার লোকজন ঝগড়া-মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। দুই পক্ষ একে অপরের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়েন বলেও অভিযোগ। সংঘর্ষে আহত হন দুই পক্ষের মোট ৮ জন। ওই সময় স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা পাপিয়া রজকের উপরেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের কয়েক জনকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সকলকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চায়েত সদস্যা পাপিয়া বলেন, ‘‘এই রাস্তা তৈরি হলে আপামর গ্রামবাসী উপকৃত হবেন। তা সত্ত্বেও বাউড়ি পাড়ার বাসিন্দারা রাস্তা তৈরিতে আপত্তি জানান। রবিবার সন্ধ্যায় যখন আমাদের রজক পাড়ার মহিলারা গ্রামে বসে গল্প করছিলেন। সেই সময় বাউড়ি পাড়ার প্রায় ৪০ জন যুবক অতর্কিত হামলা চালান।’’ অন্য দিকে, বাউড়ি পাড়ার বাসিন্দা কল্পনা বলেন, ‘‘রাস্তা তৈরির আগে আমাদের বাউড়ি পাড়ার কোনও ব্যক্তির মতামত নেওয়া হয়নি। তা নিয়ে কয়েক দিন আগে দুই পাড়ার বিবাদ হয়েছিল। পরে তা মিটেও যায়। রবিবার বিকেলে রজক পাড়ার মহিলারা আমাদের পাড়ার ছেলেদের কটূক্তি করায় গন্ডগোল শুরু হয়।’’

ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গুরুদাস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রবিবার রাস্তা নির্মাণের কাজ চলাকালীন কোনও ঝামেলা হয়নি। পরে কী হয়েছে, তা আমি সঠিক জানি না। তবে শুনেছি কটূক্তি করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গন্ডগোলের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে।’’ তবে বিষয়টিকে জনরোষ বলে দাবি করেছে বিজেপি। বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, ‘‘রাস্তা নির্মাণে বিপুল পরিমাণ কাটমানি নিয়েছেন পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা। আর সে কারণেই তাঁর উপর জনরোষ আছড়ে পড়েছে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন