BJP Leaders Show Cause

স্বাস্থ্য আধিকারিককে নিগ্রহে জড়িত বিজেপির চার নেতা! সভাপতি শমীকের নির্দেশে পদক্ষেপ নেতৃত্বের

গত ১২ মে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকের পাথরডি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ)-কে হেনস্থার অভিযোগ উঠে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে রাজনৈতিক শোরগোল হয়। তার পরেই এই পদক্ষেপ বিজেপির।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১৪:১৩
Samik Bhattacharya

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পুরুলিয়ার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্য আধিকারিকের উপর হামলায় জড়িত দলের চার নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল রাজ্য বিজেপি। ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে দলবিরোধী কার্যকলাপের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তদের। আপাতত দলীয় কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে চার বিজেপি নেতাকেই।

Advertisement

গত ১২ মে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকের পাথরডি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ)-কে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে রাজনৈতিক শোরগোল হয়। অভিযোগ, বাঘমুন্ডির প্রসূতিদের ভিন্‌রাজ্যের হাসপাতালে কেন স্থানান্তরের পরামর্শ বা নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে পাথরডির স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থা করেন তাঁরা।

বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। শেষমেশ অভিযুক্ত দলীয় নেতাদের শো কজ় করারর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্মশিবির। শো কজ় চিঠি পেয়েছেন রাকেশ মাহাতো। তিনি পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা বাঘমুন্ডি ব্লকের বিজেপির আহ্বায়ক। শো কজ় করা হয়েছে বাঘমুন্ডি ব্লকের সহ-আহ্বায়ক বিজয়মোহন সিংহ, মণ্ডল-৪-এর সভাপতি অরুণচন্দ্র মাঝি এবং যুব মোর্চার সভাপতি মিঠুন কুমার। তাঁদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য আধিকারিককে ভীতি প্রদর্শন, অকথ্য ভাষায় হুমকি, শারীরিক ভাবে হেনস্থা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে। যা দলবিরোধী কাজের শামিল। বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশে এবং রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে দলবিরোধী কাজের জন্য আপাতত দলের কাজ করতে পারবেন না। সাত দিনের মধ্যে তাঁদের ওই কর্মকাণ্ডের কার্যকারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

নেতাদের শো কজ় নিয়ে বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো বলেন, ‘‘রাজ্য নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই বিষয়ে আমি মন্তব্য করব না। এটা সম্পূর্ণ দলীয় বিষয়।’’ অন্য দিকে, যে চার নেতাকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কেউ ওই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে রাকেশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশার কারণে সেখানকার স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন তিনি। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল। কিন্তু হেনস্থার ঘটনা ঘটেনি। দল বিষয়টি লিখিত আকারে জানতে চেয়েছে। তিনি জবাব দেবেন।

Advertisement
আরও পড়ুন