মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।
জঙ্গলমহলের জঙ্গল কমে গিয়েছে। মঙ্গলবার মুকুটমণিপুরে সভা করতে এসে চপার থেকে নেমে প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বন দফতরকে গাছ লাগাতে ও জঙ্গলরক্ষায় উদ্যোগী হতেও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার খাতড়ার মুকুটমণিপুরে হুল দিবসের রাজ্য স্তরের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, চপারে মুকুটমণিপুরে আসার পথে জঙ্গলের ঘনত্ব কমে গিয়েছে বলে তাঁর নজরে পড়ে। রাজ্যে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন জঙ্গলমহলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও গাছ চুরি নিয়ে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করতে শোনা যেত শুভেন্দুকে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বাঁকুড়া সফরে এসেই জঙ্গলের গাছ কমে যাওয়া নিয়ে প্রশাসনকে তাঁর সতর্ক করার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ওই অনুষ্ঠানে থাকা বাঁকুড়ার এক বিজেপি বিধায়ক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আকাশপথে জঙ্গলের অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অনুষ্ঠানে এসেই এ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।” প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, বন দফতরের নিয়ম মাফিক আগামী দশ বছরের জন্য জঙ্গলরক্ষার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে বছরখানেক আগেই কাজ শুরু হয়েছে। বনসৃজনের একাধিক কর্মসূচিও চলছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে জঙ্গলরক্ষায় বন দফতর কী উদ্যোগ নেয়, সে দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এ দিকে হুলদিবসের মঞ্চ থেকেই মুকুটমণিপুরকে আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, মুকুটমণিপুর ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির সঙ্গে আলোচনা করে ওই পর্যটন কেন্দ্রের জন্য বিশেষ পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কাজের রিপোর্ট বানিয়ে সাত দিনের মধ্যে রাজ্যে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রিপোর্ট পাওয়ার পরেই অর্থ বরাদ্দ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জেলায় রাস্তা, জলের ব্যবস্থা ও পথবাতি বসানোর কাজকে গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।