WB Election 2026 Result

বাম-কং জোট না বাঁধার প্রভাব পড়েছে ফলে

মূলত দু’টি কারণে বাম ও কংগ্রেস তাদের ভোট ধরে রাখতে পারেনি বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

শুভ্রপ্রকাশ মণ্ডল
শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১০:৪৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

তৃণমূল ও বিজেপির বিকল্প হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবেন তারা। ভোটের ফল বেরনোর আগে এমনই দাবি শোনা গিয়েছিল পুরুলিয়ার বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের মুখে। যদিও ফলে তার প্রতিফলন দেখা গেল না। জেলায় গেরুয়া-ঝড়ে কার্যত দাঁড়াতেই পারেননি দু’দলের প্রার্থীরা। তথ্য বলছে, ২০২১-এর তুলনায় জেলায় এ বারে (পাঁচ আসনে) বামেদের ভোট কমেছে ১৭,৫৯৩টি। আর কংগ্রেসের (চার আসনে) ভোট কমেছে ৮৪,৯৭১টি। সে বারে বাম ও কংগ্রেস জোট বেঁধে লড়লেও এ বারে আলাদা ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে দু’দল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত, দু’দলেরই নিচুতলার ভোটের একাংশ এ বারেও গিয়েছে বিজেপির দিকে। তৃণমূল-বিজেপির ‘আপসের’ তত্ত্ব নিয়ে সরব হলেও নিজেদের ভোট ধরে রাখতে পারেনি বামেরা। অন্য দিকে, কংগ্রেসের উপরেও যে ভরসা রাখতে পারেননি পুরুলিয়ার গ্রামাঞ্চল তথা শহরের ভোটারেরা, ফলে তা-ও স্পষ্ট হয়েছে। এমনকি, পুরুলিয়া আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া দিব্যজ্যোতিপ্রসাদ সিংহদেও-র। বাঘমুণ্ডি আসনে লড়া কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতোও ২০২১-র তুলনায় প্রায় ২০ হাজার ভোট কম পেয়েছেন।

অথচ এ বারে নিচুতলার সাংগঠনিক অবস্থাকে আরও পোক্ত করেই নির্বাচনে নেমেছিল সিপিএম ও কংগ্রেস। দু’দলই বড় সভা করার পরিবর্তে বেশি সংখ্যক এলাকায় ছোট সভা, মিছিল করে প্রচার সেরেছে। পাশাপাশি, সিপিএমের দিকে তরুণ প্রজন্মের একাংশ ঝুঁকছে, সেই ছবিও উঠে এসেছিল দলের সভা-মিছিলে। কিন্তু তার প্রতিফলন ভোট-বাক্সে সে ভাবে হয়নি। কেন এই পরিস্থিতি?

মূলত দু’টি কারণে বাম ও কংগ্রেস তাদের ভোট ধরে রাখতে পারেনি বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাঁদের একাংশের মতে, এ বারে রাজ্যে সরকার বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েই ভোট দিয়েছেন ভোটারদের বড় অংশ। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের পরিবর্ত হিসাবে উঠে এসেছিল বিজেপিই। তাই বামফ্রন্ট বা কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ হারাতে চাননি তাঁরা।

তা ছাড়া, বামফ্রন্ট ও কংগ্রস এ বারে জোট না বাঁধায় তাদের একার পক্ষে যে সরকার গঠন সম্ভব নয়, তা-ও মাথায় ছিল ভোটারদের। জোট না হওয়ার প্রভাব পড়েছে ভোট প্রাপ্তিতেও। ২০২১ সালে যেখানে জেলায় নয় আসনে জোট প্রার্থীদের প্রাপ্ত মোট ভোট ছিল ২,১১,২৮৯ টি, সেখানে এ বারে বামেরা পেয়েছে ৮৮,৬৪৩ ভোটটি আর কংগ্রেস পেয়েছে ৭৫,২৭১টি ভোট। দু’দলের মিলিত ভোট কমেছে ৪৭,৩৭৪টি।

সিপিএম নেতৃত্বের একাংশ জানাচ্ছেন, তাঁরা বিকল্প তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, ‘‘ফলাফল থেকেই স্পষ্ট, তৃণমূলের সীমাহীন দুর্নীতি, স্বৈরাচারী রাজত্ব, অপশাসনের বিরুদ্ধে রাজ্যের জনগণ রায় দিয়েছেন। তার ফায়দা পেয়েছে বিজেপি।”

নেপালও বলছেন, ‘‘তৃণমূলের অপশাসন থেকে মুক্তি চেয়েছেন জনগণ। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেস যে বিকল্প হতে পারে, তা তাঁরা মনে করেননি। তৃণমূলকে হারানোর জন্যই বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন তাঁরা।” তবে কিছু বুথের অস্বাভাবিক ফল নিয়ে ধন্দে দু’দলের নেতৃত্ব। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন