WB Elections 2026

বহিরাগত নয়,এ বার লড়াইঘরের ছেলেদের

২০২১ সালে বিজেপিও এখানে প্রার্থী করেছিল খাতড়ার বাসিন্দা শ্যামল সরকারকে। সেই থেকেই গেরুয়া কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।

শুভেন্দু তন্তুবায়
শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৫৭
বুধবার কাশীপুরের কালীদহ পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়া।

বুধবার কাশীপুরের কালীদহ পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়া।

‘বহিরাগত’ প্রার্থী দেওয়াই যেন দস্তুর হয়ে উঠেছিল ডালড্যাংরা কেন্দ্রে। গত কয়েক বছর ধরে বিজেপি ও তৃণমূলের এই প্রার্থী চয়ন দেখে আসছিলেন তালড্যাংরা কেন্দ্রের বাসিন্দারা। এ বার বিজেপি ও তৃণমূল দুই যুযুধান দলই স্থানীয় প্রার্থী নির্বাচন করেছে। বামেদের প্রার্থীও বরাবরের মতোই স্থানীয়। রাজনৈতিক মহল বলছে, তালড্যাংরা কেন্দ্রের ভোটাররা ঘরের কোন ছেলেকে বেশি আপন করে নেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

একদা লাল দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল তালড্যাংরা। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য তথা প্রাক্তন জেলা সম্পাদক অমিয় পাত্র থেকে তৎকালীন দাপুটে নেতা মনোরঞ্জন পাত্রের খাসতালুক তালড্যাংরা। ২০১১ সালেও তালড্যাংরায় জেতেন মনোরঞ্জন। তবে ২০১৬ থেকে জিতে আসছে তৃণমূল। তখন বিধায়ক হন কলকাতাবাসী সমীর চক্রবর্তী। ২০২১-তে বিধায়ক হন বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা অরূপ চক্রবর্তী। গত লোকসভা ভোটে তিনি জিতে সাংসদ হওয়ার পরে উপ-নির্বাচনে তৃণমূল সিমলাপালের বাসিন্দা, শিক্ষক-নেতা ফাল্গুনী সিংহবাবুকে প্রার্থী করেন। তিনি বিধায়ক হন। এ বারও তিনিই তৃণমূলের প্রার্থী।

অন্য দিকে, ২০২১ সালে বিজেপিও এখানে প্রার্থী করেছিল খাতড়ার বাসিন্দা শ্যামল সরকারকে। সেই থেকেই গেরুয়া কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি ফের ২০২৪ এর উপ-নির্বাচনে প্রার্থী করে বাঁকুড়া শহরের অনন্যা রায় চক্রবর্তীকে। ফের ‘বহিরাগত’ প্রার্থীকে নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। তবে এ বার গেরুয়া শিবির প্রার্থী করেছে তালড্যাংরা ৩ মণ্ডলের সভাপতি, সিমলাপাল পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা সৌভিক পাত্রকে।

গত বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে তৃণমূল ১২ হাজারের বেশি ভোটে জেতে। ২০২৪-এর লোকসভার নিরিখে প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটে এই কেন্দ্রে এগিয়ে যায় তৃণমূল। তবে উপ-নির্বাচনে ৩৪ হাজারের বেশি ভোটে জেতে তৃণমূল। সেই ফলকে সামনে রেখে এখানে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তৃণমূল। যদিও বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাগরিক পরিষেবার নানা প্রতিশ্রুতি বার বার পেলেও দাবি পূরণ হয়নি। বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা, সিমলাপাল নদীঘাটের সেতু না হওয়া, পাথরডাঙা-ভেলাইডিহা কজ়ওয়ে সংস্কার না হওয়া, সিমলাপালে ডিগ্রি কলেজ তৈরি না হওয়া, জয়পণ্ডা নদীর উপরে তালড্যাংরার বাঁশকোপায় কজ়ওয়ে তৈরি না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। সিমলাপালে ব্লকে বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহ শুরু হলেও তালড্যাংরা ব্লকে এখনও সে কাজ শেষ হয়নি। গরমে জল সমস্যা বাড়লে ভোটারদের অসন্তোষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল। এই বিধানসভার মধ্যে ইঁদপুরের দু’টি পঞ্চায়েত রয়েছে। সেখানেও জলের দাবি মেটেনি। এরই সঙ্গে বিরোধীরা সমাজমাধ্যমে শীলাবতী ও জয়পণ্ডা নদী থেকে রাতের অন্ধকারে শাসকদলের যোগসাজসে বালি চুরির অভিযোগে সরব হয়েছে।

যদিও বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনীর দাবি, ‘‘প্রতিটি পরিবার রাজ্য সরকারের নানা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিষেবা পাচ্ছেন। এ ছাড়া রাস্তাঘাট তৈরি, পথবাতি বসানো, অ্যাম্বুল্যান্স বিলি, স্কুলের সংস্কারের মতো বহু কাজ হয়েছে। বিধায়কের তহবিলেও প্রচুর কাজ করেছি। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে মানুষ তৃণমূলকেই ভোট দেবেন।’’ তবে দলের অন্দরের খবর, সিমলাপালের কিছু পুরনো তৃণমূল নেতা প্রার্থীর প্রচারে সক্রিয় হননি। এটার প্রভাব ভোটে পড়বে কি না, তা নিয়ে কর্মীমহলে চর্চা চলছে।

অন্য দিকে, স্থানীয় প্রার্থী পেয়ে প্রচারে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও আবেগ দেখা যাচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী সৌভিকের দাবি, ‘‘তৃণমূলের দুর্নীতি ও অনুন্নয়নে মানুষ বিরক্ত ছিলই। চাষিদেরও পাশে নেই রাজ্য সরকার। এ বার তৃণমূল জবাব পাবে।’’ যদিও রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব, কেন্দ্রের ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো জনবিরোধী নীতির জন্য মানুষ এ বার তাঁদেরই বিকল্প হিসেবে বেছে নেবে বলে দাবি করছেন সিপিএম প্রার্থী দেবকান্তি মহান্তি। প্রচারে পিছিয়ে থাকলেও ভাল ফলের আশায় রয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী সারেঙ্গার বাসিন্দা নয়নদাস চক্রবর্তী। শেষ হাসি কে হাসেন, অপেক্ষায় সবাই।

আরও পড়ুন