—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেও অসমাপ্ত নবদ্বীপ-ঘাট রেলপথ সম্প্রসারণ কি সেই তিমিরেই রইল, প্রশ্ন উঠছে আবারও। কারণ, সম্প্রতি রাজ্য সরকার প্রকাশিত ৬১টি জরুরিভিত্তিক রেল প্রকল্পের তালিকায় নেই পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত রেলপথের কাজ। বিষয়টি নিয়ে ভীষণ রকমের হতাশ গ্রামীণ নবদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজন।
দেড় দশকের বেশি সময় ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা নবদ্বীপ ঘাট-কৃষ্ণনগর রেলপথের গেজ পরিবর্তনের কাজে এখন বাকি আছে মাত্র ৩.৯ কিলোমিটার দূরত্বের কাজ। প্রায় দু’বছর ধরে পুরনো নবদ্বীপ ঘাট স্টেশন পর্যন্ত ওই সামান্য দূরত্বের রেলপথের গেজ পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে লাগাতার আন্দোলন করে চলেছেন নবদ্বীপ ঘাট রেল স্টেশন বাঁচাও কমিটি। কমিটির সহ সম্পাদক সঞ্জয় শর্মা বলেন, “ওই তালিকায় নদিয়ার কৃষ্ণনগর সিটি (ধুবুলিয়া) থেকে চারাতলা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার এবং কৃষ্ণনগর থেকে চাপড়া পর্যন্ত ১৯.২ কিলোমিটার দূরত্বের দু’টি নতুন রেলপথের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নবদ্বীপ ঘাটের উল্লেখ নেই।”
এর আগে জানুয়ারি মাসে রেল মন্ত্রকের তরফে রাজ্যের একাধিক রেল প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়। তাতেও উল্লেখ ছিল না নবদ্বীপ ঘাট রেলপথের প্রসঙ্গ।
যদিও এর জন্য পূর্বতন রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিজেপির কানাই দাস। তিনি জানিয়েছেন, গত বছর জুলাই মাসে ওই অবশিষ্ট রেলপথের গেজ পরিবর্তনের কাজ শুরুর জন্য রেলের তরফে জমি সমীক্ষা করার কথা বলে চিঠি দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় প্রশাসনকে। তিনি বলেন, “নবদ্বীপ বিডিও অফিসে সেই বৈঠক ভেস্তে যায় তৎকালীন শাসকদলের আপত্তিতে। তৃণমূলের প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন গঙ্গার উপর রেলসেতু দিয়ে নবদ্বীপ ধাম পর্যন্ত প্রস্তাবিত লাইনের কাজ না হলে এই রেলপথের কাজ করা যাবে না। তাঁদের জন্য কাজ শুরু হতে পারেনি। এ বার কাজ হবে।”
রাজ্যে সরকার বদলের পরে গত ২২মে নবদ্বীপ ঘাট স্টেশন বাঁচাও কমিটির সদস্যেরা নব নির্বাচিত বিধায়কের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানান। নবদ্বীপের বিজেপি বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী মঙ্গলবার বলেন, “আমি সোমবার শিয়ালদহের ডিআরএমের সঙ্গে নবদ্বীপ ঘাট রেলপথ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছি। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।”