Sonamukhi

মাঠের দ্বিগুণ দামে বাজারে আলু বিক্রি, ক্ষতি কৃষিজীবীর

ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ পটেটো গ্রোয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা সম্প্রতি নবান্নে কৃষি বিপণন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজ্য কৃষি আধিকারিকেরা ছিলেন।

অভিজিৎ অধিকারী
শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৫
আলু তোলা চলছে সোনামুখীর রাধামোহনপুর। নিজস্ব চিত্র

আলু তোলা চলছে সোনামুখীর রাধামোহনপুর। নিজস্ব চিত্র

মাঠে আলু বিক্রি হচ্ছে চার টাকা কিলোগ্রাম দরে। অথচ সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বাজারে সেই আলুর দাম কেজি প্রতি আট-দশ টাকা! এমনই ছবি দেখা যাচ্ছে সোনামুখী, বিষ্ণুপুর, জয়পুর-সহ বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এই অবস্থায় চাষিরা আলুর নায্য দাম না পাওয়ায় কপাল চাপড়াচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় তাঁরা চাষের খরচও তুলতে পাচ্ছেন না। অথচ দ্বিগুণ দামে আলু বিক্রি করে মাঝখান থেকে ব্যবসায়ীরা লাভের গুড় খেয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা আলুর দাম বৃদ্ধির জন্য রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ পটেটো গ্রোয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা সম্প্রতি নবান্নে কৃষি বিপণন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজ্য কৃষি আধিকারিকেরা ছিলেন। সংগঠনের তরফে আলুর দাম বস্তা পিছু ৫০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। রাজ্যের কৃষি বিপনন মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। খুব শীঘ্রই ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার।’’

সর্বত্রই এ বার আলুর ভাল ফলন হয়েছে। কিন্তু দাম না ওঠায় মোটেই স্বস্তিতে নেই চাষিরা। এ দিকে হিমঘর খুলতেও এখন কিছুটা দেরি রয়েছে। তাই চাষিরা চিন্তায় পড়েছেন। সোনামুখীর মেথরার সন্দীপ বাগদি, ইসবপুরের অজিত মণ্ডল বলেন, ‘‘অন্য বছরে মাঠ থেকে আলু ৬০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল (একশো কেজি) হিসাবে বিক্রি হয়। এ বারে দাম নেমেছে ৪০০ টাকা। লাভ থাকছে না। সরকার থেকে সহায়ক মূল্যে আলু কেনার ব্যবস্থা করুক। না হলে চাষিদের সর্বনাশ হয়ে যাবে।’’

সোনামুখীর রাধামোহনপুরের বুদ্ধদেব মণ্ডল জানান, গত বছরে তাঁর জমিতে বিঘা প্রতি ৬০-৭০ বস্তা (৫০ কেজি) আলুর ফলন হয়েছিল। এ বার প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় বিঘা প্রতি আলু হয়েছে ১১০-১২০ বস্তা। বিঘা প্রতি চাষের খরচ ২৫-২৭ হাজার টাকা। অথচ যা দাম যাচ্ছে, তাতে খরচের টাকা ঘরে তুলতে পারবেন কি না, সংশয়ে তিনি। একই আশঙ্কার কথা জানান স্থানীয় সুকুমার দাস, সুমন বাগদি, রাঙামাটির অলোক দাস, সমিতি মানার বাসিন্দা জিতু লোহার, বিষ্ণুপুরের গঙ্গাধর দুলেরা। অথচ সোনামুখী শহরের বাসিন্দা গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “চাষিরা চার টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করলেও আমরা বাজারে সেই আলু ১০ টাকা কেজি দরকে কিনছি। আলুর দাম কমার সুফল আমরা পাচ্ছি না। চাষিও চাষের খরচ তুলতে পারছেন না। মাঝখান থেকে লাভ তুলছে কারা?’’

বিষ্ণুপুরের এক আলু ব্যবসায়ী বলেন, “মাঠে আলু কিনে বস্তায় তোলা, সেলাই করা, পরিবহণ— সব মিলিয়ে মাঠ থেকে আড়তে আলু নিয়ে আসতে কুইন্ট্যাল প্রতি খরচ পড়ে কমপক্ষে ছয়-আট টাকা। ফলে সামান্য লাভ রেখে আলু বিক্রি করতে গেলে দাম কেজিতে ১২-১৪ টাকা হয়ে যাচ্ছে।’’ তাঁর মতে, আলু ভিন্‌ রাজ্যে পাঠানো গেলে তবেই দাম পাওয়া যাবে। কিন্তু অন্য রাজ্যগুলিতেও এ বার আলুর উৎপাদন ভাল হয়েছে। ফলে রফতানির আশাও নেই। ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি’র উপদেষ্টা বিভাস দে বলেন, “দ্বিগুণের বেশি ফলন হওয়ায় আলুর দাম কম আছে। তবে সরকারি ভাবে মার্চের প্রথম সপ্তাহে হিমঘর খুলে যাচ্ছে। তখন চাষিরা আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন।’’ বিষ্ণুপুরের মহকুমা কৃষি দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জলদি আলুর বেশির ভাগটাই চাষিরা বিক্রি করে দেন। ফলন ও চাহিদার উপরে নির্ভর করে দাম উঠা-নামা করে। বাজারেও আলুর দাম নিয়ন্ত্রণেই আছে।’’

আরও পড়ুন