Drowned to Death in Bankura

দ্বারকেশ্বর নদে তলিয়ে গেল পড়ুয়া! গত ৭২ ঘণ্টায় চার পড়ুয়ার মৃত্যু, স্কুলে স্কুলে সচেতনতা বৃদ্ধি

মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর থানার ষাঁড়েশ্বর সুভাষপল্লি ঘাটে স্নান করতে নেমে দ্বারকেশ্বর নদে তলিয়ে যায় বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের নবম শ্রেণির তিন পড়ুয়া।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৫ ১৭:১৮

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বাঁকুড়ায় দ্বারকেশ্বরে তলিয়ে যাওয়া তিন পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হওয়ার পরে ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে সামড়ো ঘাটের কাছে দ্বারকেশ্বরে তলিয়ে মৃত্যু হল পঞ্চম শ্রেণির আর এক পড়ুয়ার। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম শেখ সলমন। তার বয়স ১০ বছর। তার পরেই স্কুলে স্কুলে সতর্কতা মূলক প্রচারের কথা ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

Advertisement

গত সপ্তাহে লাগাতার চার দিনের বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে উঠেছিল দ্বারকেশ্বর নদ। চলতি সপ্তাহের গোড়ায় বৃষ্টি কমার পরে নদে জলস্তরের উচ্চতা কমে। তবে স্রোত রয়েছে। আর তাতেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে বাঁকুড়া জেলায়। মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর থানার ষাঁড়েশ্বর সুভাষপল্লি ঘাটে স্নান করতে নেমে দ্বারকেশ্বর নদে তলিয়ে যায় বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের নবম শ্রেণির তিন পড়ুয়া। টানা দু’দিন ধরে দ্বারকেশ্বর নদে তল্লাশি চালিয়ে বুধবার ওই তিন পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার করে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার দ্বারকেশ্বর নদে স্নান করতে নেমে স্রোতে ভেসে যায় সলমন। সে ইন্দাস থানার শান্তাশ্রম গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্কুলে না গিয়ে দুপুরে পরিবারের কয়েক জনের সঙ্গে নদে স্নান করতে যায় সলমন। তাঁর মামা ঘাটে পৌঁছোনোর আগেই দুই সঙ্গীর সঙ্গে সলমন দ্বারকেশ্বরে স্নান করতে নেমে পড়ে। জলে নামার কিছু ক্ষণের মধ্যেই ওই তিন পড়ুয়া তলিয়ে যেতে শুরু করে। পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয়েরা কোনও ক্রমে দুই সঙ্গীকে উদ্ধার করে পাড়ে তুলে আনলেও জলে তলিয়ে যায় সলমন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় ইন্দাস থানার পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের চেষ্টায় উদ্ধার হয় সলমনের দেহ। স্থানীয়েরা জানিয়েছেন, এমনিতে দ্বারকেশ্বর নদে এখন যথেষ্ট স্রোত রয়েছে। সাঁতার না জানায় ওই পড়ুয়া ডুবে গিয়েছে।

ইন্দাসের বিডিও সুরেন্দ্রনাথ পতি বলেন, ‘‘ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ এবং ব্লকের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। কিন্তু পঞ্চম শ্রেণির ওই পড়ুয়াকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার দেহ উদ্ধার হয়েছে। বর্ষার সময় যাতে কোনও পড়ুয়া নদীতে স্নান করতে না নামে, সেই বার্তা দিয়ে আমরা স্কুলে স্কুলে প্রচার চালাব।’’

Advertisement
আরও পড়ুন