ছত্তীসগঢ়ে আটক কিশোরেরা ফিরল পুরুলিয়ায়। ছবি: সুজিত মাহাতো।
পড়া বন্ধ রেখে সংসারের খরচ জোগাড় করতে ছত্তীসগঢ়ে পাঁউরুটির কারখানায় কাজে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল পুরুলিয়ার চার নাবালক শ্রমিক। সেখানকার হোম থেকে ঠিক সরস্বতী পুজোর আগেই বাড়ি ফিরল চার জন। তাদের ফিরিয়ে দিয়ে ফের স্কুলে পাঠাতে বাড়ির বড়দের পরামর্শ দিল জেলা শিশু কল্যাণ সমিতি। সম্মতি জানিয়েছে ওই কিশোরদের পরিজনেরাও।
৪ জানুয়ারি ছত্তীসগঢ়ের সুরজপুর এলাকায় একটি পাঁউরুটি কারখানার আট জন বাঙালি শ্রমিককে বাংলাদেশি সন্দেহে স্থানীয় বজরং দলের কর্মীরা মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয় পুলিশ আট জনকেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। চার প্রাপ্ত বয়স্ককে নথি যাচাই করে বাড়ি পাঠানো হলেও নাবালক হওয়ায় বাকি চার জনকে একটি হোমে রাখা হয়। ওই নাবালকদের মধ্যে দু’জন আড়শা থানার ভুরসা গ্রামের বাসিন্দা। বাকিরা পুরুলিয়া মফস্সল থানার চেপড়ি গ্রাম ও পুরুলিয়া ১ ব্লকের তেঁতলো গ্রামের বাসিন্দা।পরে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন নথিপত্র পাঠালে বুধবার তাদের ছাড়া হয়।
ছত্তীসগঢ় শিশুসুরক্ষা দফতরের তিন আধিকারিক ও সেখানকার পুলিশের দুই আধিকারিকের একটি দল বুধবার রাতে তাদের নিয়ে ট্রেনে পুরুলিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁরা পুরুলিয়া স্টেশনে পৌঁছন। সেখান থেকে পুরুলিয়া পুলিশের সহযোগিতায় চার কিশোরকে নিয়ে যাওয়া হয় শহর সংলগ্ন শিমুলিয়া আনন্দমঠ হোমে। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিলেন তাদের পরিবারের সদস্যেরা। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় কিশোরদের। পরে বাড়িতে গিয়ে কিশোরদের সঙ্গে দেখা করেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো, তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার।
জেলা শিশুকল্যাণ সমিতির চেয়ারপার্সন দীপঙ্কর সরকার বলেন, “ওই কিশোরদের বাড়ির লোকজনকে ওদের স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরকার থেকে মাসিক ৪,০০০ টাকা করে অনুদান পাওয়ার বন্দোবস্ত করার চেষ্টা করা হবে।” তিনি জানান, ওই চার জনকে স্কুলে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র এ দিনই দেওয়া হয়েছে। স্কুলে ভর্তির জন্য তাদের ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তাঁরাও ওই কিশোরেরা স্কুলে ভর্তি হল কি না, ওদের উপরে নজর রাখা হবে।
অভিভাবকদের মধ্যে ভুরসা গ্রামের শেখ কাদির, শেখ লালকু বলেন, “ঘরে অভাব। তাই ছেলেরা প্রাথমিক স্কুলের পড়া অসমাপ্ত রেখেই কাজে গিয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমরা চিন্তায় ছিলাম। শেষমেশ সুস্থ ভাবে বাড়ি ফিরেছে, এটাই বড় ব্যাপার। জেলা শিশুসুরক্ষা দফতর যা পরামর্শ দিয়েছে, তা পালন করব।”