—প্রতীকী চিত্র।
সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের দাবিতে আগামী ২৭ জানুয়ারি ডাকা ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের সমর্থনে বৃহস্পতিবার দেশ জুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছিল ব্যাঙ্কের কর্মী এবং অফিসারদের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স (ইউএফবিইউ)। সংগঠনের আহ্বায়ক সুদীপ দত্ত-র অভিযোগ, একাধিক দফায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সংগঠন আইবিএ-র সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল পাঁচ দিনেসপ্তাহ চালুর। তবু কেন্দ্র কার্যকর করছে না। দাবির প্রতি সমর্থন চেয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছে ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠন আইবক।
আইবকের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় এবং অল ইন্ডিয়া ন্যাশনালাইজ়ড ব্যাঙ্ক অফিসার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাস বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের সিংহভাগ, বহু রাজ্য সরকার, জীবন বিমা নিগম, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক-সহ বিভিন্ন দফতরে অনেক আগে থেকেই পাঁচ দিনের সপ্তাহ চালু আছে। শুধু ব্যাঙ্কেই করা হচ্ছে না।’’ শুভজ্যোতির দাবি, ওই দাবি নিয়ে প্রথমে ২০২৩-এর ডিসেম্বরে মউ সই হয়। ফের চুক্তি হয় ২০২৪-এর মার্চে। তার পরেও সরকার তা না মানায় গত বছর ২৪-২৫ মার্চে দু’দিন ধর্মঘটের ডাক দেয় যৌথ মঞ্চ। সেই সময়ে কেন্দ্রের আর্থিক বিষয়ক দফতর (ডিএফএস) কেন্দ্রীয় শ্রম কমিশনারের উপস্থিতিতে আশ্বাস দিয়েছিল দাবি বিবেচনা করে দেখার। কিন্তু তার পরেও ১০ মাস কেটে গিয়েছে। কিছু হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘মাসে দু’দিন অতিরিক্ত ছুটির জন্য বাকি প্রতিটি দিন ৪০ মিনিট করে কাজ করার শর্তও মেনে নিয়েছি। এই অবস্থায় আমাদের ধর্মঘটে যেতে বাধ্য করছে কেন্দ্র।’’
বিক্ষোভে শামিল এআইবিইএ-র অন্যতম নেতা পবিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান-সহ বহু দেশেই ব্যাঙ্কে পাঁচ দিনের সপ্তাহ। ভারত যখন সব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিধি অনুসরণের চেষ্টা করছে, তখন এ ক্ষেত্রে কেন নয়! এর প্রতিবাদ জানাতেই ধর্মঘটডাকা হয়েছে।’’
যদিও ২৭শে এক দিনের ধর্মঘট ডাকা হলেও, এর ফলে দেশে টানা চার দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে। রাজ্যে থাকবে পাঁচ দিন। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে ২৩ জানুয়ারি নেতাজি জয়ন্তী এবং সরস্বতী পুজোর ছুটি। ২৪ জানুয়ারি মাসের চতুর্থ শনিবার বলে রাজ্য-সহ সারা দেশে ব্যাঙ্ক বন্ধ। ২৫ রবিবার ও ২৬ তারিখ প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটি।