নিহত মাওবাদী নেতা সমীর সোরেন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মুখের মিল অনেকটাই। কিন্তু তিনিই কি বাঁকুড়ার বারিকুল থানার ইঁদকুড়ি গ্রামের সুরেন্দ্রনাথ সোরেন? না কি মুখের সাদৃশ্য থাকা অন্য কেউ? ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন মাওবাদী নেতা সমীর সোরেন। নিহতদের তালিকায় তাঁর নাম এবং ছবি দেখে ধন্দে ইঁদকুড়ি গ্রাম। অনেকেই মনে করছেন এই সমীরই সুরেন্দ্র! তবে তার পরেও জল্পনা থেকেই যাচ্ছে।
সারান্ডা জঙ্গলে বৃহস্পতিবার সকালে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছিল জঙ্গলযুদ্ধের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিআরপিএফ-এর ‘কোবরা’ বাহিনী। সঙ্গে ছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। সকাল থেকে চলা গুলির লড়াইয়ে ১৪ জন মাওবাদী নিহত হন। যৌথবাহিনীর তরফে নিহতদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় ছিল মাওবাদী নেতা পতিরাম মাঝি ওরফে অনলদা, লালচাঁদ হেমব্রম ওরফে আনমোলের মতো নাম। তবে বাঁকুড়ার ইঁদকুড়ি গ্রামের দৃষ্টি টেনেছে তালিকায় থাকা ছ’নম্বর নামটাই। সেই নামটা হল সারান্ডা জ়োনাল কমিটির সদস্য সমীর সোরেনের।
এই সমীরই কি সুরেন্দ্রনাথ? অনেকে মনে করছেন, সারান্ডার জঙ্গলে এনকাউন্টারে নিহত সমীর সোরেনই আসলে বাঁকুড়ার বারিকুল থানার ইঁদকুড়ি গ্রামের নিখোঁজ বাসিন্দা সুরেন্দ্রনাথ!
বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের এক কালের মাওবাদী প্রভাবিত বারিকুল থানার প্রত্যন্ত গ্রাম ইঁদকুড়ি। এই গ্রামেই জন্ম সুরেন্দ্রনাথের। অল্প বয়সেই বাবা মারা যান। ভাই হলধর সোরেন এবং তিনি বড় হয়ে ওঠেন মায়ের কাছে। স্থানীয় শুশুনিয়া হাইস্কুলে পড়াশুনা। তবে ২০০৬- ০৭ সালে নবম শ্রেণিতে অনুত্তীর্ণ হওয়ায় লেখাপড়ায় ইতি টানেন সুরেন্দ্রনাথ। তার পর হঠাৎই বাড়ি ছেড়ে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। অনেক জায়গায় খোঁজ করেও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে ২০০৮ সাল নাগাদ বাড়ি ফিরেছিলেন সুরেন্দ্রনাথ। তবে তা খুবই কম দিনের জন্য। দিন কয়েক পর আবার নিখোঁজ হয়ে যান। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৬ সালেই মাওবাদী দলে যোগ দেন সুরেন্দ্রনাথ। পুলিশের একাংশের দাবি, বারিকুলের ইঁদকুড়ি গ্রামের সুরেন্দ্রনাথই পরবর্তীতে মাওবাদী দলে সমীর নামে পরিচিত হন।
বৃহস্পতিবার এনকাউন্টারে নিহত সমীরই কি সুরেন্দ্রনাথ, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। সুরেন্দ্রনাথের ভাই হলধরও নিশ্চিত করে বিষয়টি বলতে পারছেন না। তাঁর কথায়, ‘‘২০০৬ সালে দাদা বাড়ি ছেড়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে শেষ বার বাড়িতে আসে। তার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ নেই। বৃহস্পতিবার এনকাউন্টারে মৃত সমীরই আমার দাদা কি না, সে ব্যাপারেও কিছু জানি না।’’