ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলায় মাওবাদীদমন অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাওবাদীদের সঙ্গে শুরু হয়েছে গুলির লড়াই। নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েক জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে নিহতদের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারান্ডার জঙ্গলে শুরু হয়েছে মাওবাদীদমন অভিযান। পশ্চিম সিংভূমের কিরিবুরু থানা এলাকার কুমদিতে মাওবাদীদের গতিবিধি দেখা গিয়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর পায় পুলিশ। সেই সূত্রের ভিত্তিতেই সারান্ডার জঙ্গলে হানা দেয় ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং আধাসেনার যৌথ বাহিনী। পুলিশের আইজি (অপারেশন) মাইকেল রাজ জানান, সকাল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়েছে। বেশ কয়েক দফায় গুলির লড়াই চলেছে দু’পক্ষের।
নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র সশস্ত্রবাহিনী পিএলজিএ (পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি)-র ‘মুক্তাঞ্চল’ হিসাবে একদা পরিচিত ছিল সারান্ডার জঙ্গল। গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক ভাবে সেখানে অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার সকালে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে জঙ্গলযুদ্ধের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিআরপিএফ-এর ‘কোবরা’ বাহিনীও।
আরও পড়ুন:
ঝাড়খণ্ড পুলিশের আইজি মাইকেল বলেন, “বৃহস্পতিবারের অভিযানে বেশ কয়েক জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। গুলির লড়াই এখনও চলছে। জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা মাওবাদীদের পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তার জন্য অতিরিক্ত বাহিনীও পাঠানো সেখানে। একই সঙ্গে চলছে তল্লাশি অভিযানও।” তবে কত জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন, সেই সংখ্যা অভিযান শেষ হওয়ার পরেই নির্দিষ্ট ভাবে বলা সম্ভব বলে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, সারান্ডার জঙ্গলের ওই অংশে মাওবাদী নেতা পতিরাম মাঝি ওরফে অনলদা এবং লালচাঁদ হেমব্রম ওরফে আনমোলও লুকিয়ে ছিলেন। অভিযানে মাওবাদীদের এক কমান্ডার-সহ বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে তাঁদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।