Advertisement
E-Paper

হাতের তালু ও আঙুলের চাপে কমবে ওজন, গলবে মেদ, রোগা হওয়ার চাবিকাঠি প্রাচীন কিছু পদ্ধতিতেই

দুই হাতের তালুতেই লুকিয়ে ওজন কমানোর চাবিকাঠি। চাপ দিতে হবে শরীরের বিশেষ কিছু পয়েন্টে। তাতেই গলবে মেদ। ওজন কমানোর আকুপ্রেশার কঠিন নয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩৬
Key Acupressure Points for Weight Loss

আকুপ্রেশারে কমবে ওজন, শিখে নিন সহজ পদ্ধতি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ওজন কমাতে ডায়েট, শরীরচর্চা কত কিছুই না করা হয়। কেউ জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরান, কেউ আধপেটা খেয়ে বা একবেলা উপোস করে ওজন কমানোর চেষ্টা করেন। স্থূলত্ব এমন এক সমস্যা যা নিয়ে বিশ্ব জুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। বড়রা তো বটেই, ছোটদেরও বয়স অনুপাতে ওজন বাড়ছে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানা শারীরিক সমস্যা। ফলে ওষুধ খেয়ে স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে জীবনের ছন্দ। কিন্তু তাতেও বাদ সাধছে কড়া কড়া সব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তাই হয়তো গোটা বিশ্ব ঝুঁকছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে। সেখানেই জায়গা করে নিয়েছে প্রাচীন কিছু পদ্ধতি, যার মধ্যে একটি আকুপ্রেশার।

প্রাচীন ভারতীয় যোগে আকুপ্রেশারের নানা পদ্ধতির উল্লেখ আছে। হাত ও পায়ের তালু, দুই হাতের আঙুল, নখ দিয়ে এমন কিছু মুদ্রা করা যায়, যা জটিল থেকে জটিলতর ব্যাধির ঝুঁকিও কমাতে পারে। সহজ করে বললে, শরীরের বিভিন্ন পেশি ও স্নায়ুগুলিকে সক্রিয় করে তোলা হয় এই পদ্ধতিতে। চিকিৎসকেরা বলেন, মানুষের শরীরের মধ্যেই অসুখবিসুখের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা লুকিয়ে আছে। স্নায়ু ও পেশিগুলির মধ্যে সেই শক্তি লুকিয়ে থাকে। তাকে জাগ্রত করে তুলতে পারলে, শরীর নিজেই যে কোনও কঠিন সমস্যার সঙ্গে লড়তে পারবে। ওষুধ খাওয়ার দরকারই পড়বে না। আকুপ্রেশারই হল সেই মাধ্যম যা শরীরে লুকিয়ে থাকা শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে।

ওজন কমানোর আকুপ্রেশার কী রকম?

কানের প্রেশার পয়েন্ট

এটি অতিরিক্ত খিদে নিয়ন্ত্রণ করার প্রধান কেন্দ্র। কানের সামনের দিকে যে ছোট ত্রিভুজাকার অংশটি থাকে, তার ঠিক উপরেই রয়েছে ওই কেন্দ্র। তর্জনী দিয়ে এই পয়েন্টে চাপ দিতে হবে। ১-৩ মিনিট ধরে রাখতে হবে।

নাকের নীচের পয়েন্ট

নাক এবং উপরের ঠোঁটের ঠিক মাঝের খাঁজটিতে একটি প্রেশার পয়েন্ট রয়েছে যেটি বার বার খাওয়ার ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করে। তর্জনী দিয়ে সেখানে হালকা চাপ দিয়ে বৃত্তাকারে মালিশ করতে হবে। প্রতি দিন অন্তত ২ থেকে ৫ মিনিট করলে উপকার হবে। এই পদ্ধতিতে বিপাকক্রিয়ার হারও ভাল হবে এবং খাবার দ্রুত হজম হবে।

কনুইয়ের প্রেশার পয়েন্ট

কনুই ভাঁজ করলে তার একদম প্রান্তে পাওয়া যাবে একটি প্রেশার পয়েন্ট। বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে সেখানে ২-৩ মিনিট ধরে জোরে চাপ দিতে হবে। এটি শরীরের অতিরিক্ত জল বার করে দেয় এবং হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

হাঁটুর প্রেশার পয়েন্ট

হাঁটুর নীচে থেকে প্রায় চার আঙুল নীচে বাইরের দিকে চাপ দিলে পাকস্থলীর শক্তি বাড়বে। প্রতি দিন সকালে ও রাতে এই পয়েন্টে ৯ বার ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং ৯ বার উল্টো দিকে মালিশ করুন।

গোড়ালির পয়েন্ট

গোড়ালির হাড় থেকে তিন আঙুল উপরে রয়েছে প্রেশার পয়েন্ট। বৃ্দ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে সেখানে ১-২ মিনিট স্থির ভাবে চেপে রাখতে হবে। এই পদ্ধতি পা ও পেটের ফোলা ভাব, পেট ফাঁপার সমস্যা কমাবে।

ওজন খুব বেশি অথচ বেশি ক্ষণ ব্যায়াম করার সময় পান না, তাঁরা আকুপ্রেশার সঠিক ভাবে করতে পারলে উপকার পেতে পারেন। অফিসে একটানা বসে কাজ করে পেটের মেদ বাড়ছে যাঁদের, তাঁরাও এই পদ্ধতিগুলি মানলে উপকার পাবেন। তবে এর সঙ্গে খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণও জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে, আকুপ্রেশার করার সময়ে প্রেশার পয়েন্টে খুব জোরে চাপ দেবেন না, আবার খুব হালকা ভাবেও নয়। একদম খালি পেটে বা সদ্য খেয়ে উঠে এই প্রক্রিয়া করলে লাভ হবে না। শরীরে কোনও ক্রনিক রোগব্যাধি থাকলে আকুপ্রেশার করার আগে অভিজ্ঞ কোনও প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিলে ভাল হয়।

Weight Loss Acupressure Roller
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy