গাছেই পচছে টোম্যাটো। নিজস্ব চিত্র
অনুকূল আবহাওয়ায় এ বার সময়ের আগেই পেকেছে টোম্যাটো, ফলনও বেশি। তবু ব্যাপক ক্ষতির মুখে চাষিরা। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে টোম্যাটোর দাম নেমেছে ২-৪ টাকা প্রতি কেজিতে। হতাশায় বহু চাষি মাঠেই ফসল ডাঁই করে রেখেছেন। অনেকে আবার গাছেই ফসল পচতে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
বান্দোয়ানের গঙ্গামান্না, সিরকা, জজডি-সহ একাধিক এলাকায় বিঘা বিঘা জমিতে টোম্যাটো চাষ হয়েছে। চাষিরা জানান, মাস দুয়েক আগে ৮০ টাকা প্রতি কেজিতে বিকিয়েছে টোম্যাটো। সপ্তাহ খানেক আগে দাম ছিল ৮-১০ টাকা প্রতি কেজি। এই সপ্তাহে টোম্যাটোর দর ২-৪ টাকা প্রতি কেজিতে এসে ঠেকেছে। লাভ দূরস্ত চাষের খরচটুকু উঠবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তার উপরে ফড়েদের মাধ্যমে বিক্রি করলে হাতে আসবে না কিছুই।
বান্দোয়ানের সিরকার চাষি তরণী গরাঁই বলেন, “প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ করে ২০ বিঘা জমিতে টোম্যাটো চাষ করেছি। এখনও এক লক্ষ টাকাই তুলতে পারিনি। শ্রমিক দিয়ে ফসল তোলালে বাড়তি খরচ হবে। তা-ই জমিতেই পড়ে রয়েছে।” কুমিরডির জিতু মাহাতোও জানান, দাম না পাওয়ায় ফসল তোলেননি। সব পচছে জমিতেই।
ফসল সংরক্ষণেরও উপায় নেই। শক্তিপদ মাহাতো নামে এক চাষি জানান, বান্দোয়ানের লিকির হিমঘরটি ১৫ বছর ধরে বন্ধ। কাছে-পিঠে আর কোনও হিমঘর নেই। এই পরিস্থিতিতে সরকারি উদ্যোগে উদ্বৃত্ত টোম্যাটো থেকে সস তৈরি করা গেলে ক্ষতির বহর কিছুটা কম হত বলে দাবি করেছেন জজডির সামানাম মান্ডি। তিনি বলেন, “এ বার টোম্যাটো চাষে খুব ক্ষতি হয়েছে। এত ফসল পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এই টোম্যাটো থেকে সরকারি ভাবে সস্ প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা করা হলে চাষিদের এ ভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হত না।” সহ-কৃষি অধিকর্তা (বান্দোয়ান) শ্যামসুন্দর রায় জানান, চাষিদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।