—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পুরুলিয়া জেলায় ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়লেও অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা তুলনায় বেশ কম। গতি কেন কম, তা নিয়ে চর্চা চলছে বিভিন্ন মহলে।
এই জেলায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এক লক্ষ ৮৫ হাজারের বেশি নাম। সেখানে নতুন ভাবে সোমবার পর্যন্ত নাম উঠেছে মাত্র ২৭ হাজার ৯০৯ জনের। শাসকদলের দাবি, নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তিতে কার্যত গুরুত্ব দিচ্ছে না কমিশন।
নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীদের জয়-পরাজয় অনেকাংশে নির্ভর করে নতুন ভোটারদের উপরে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন ভোটাররা সহজেই কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত মনো ভাব নিয়ে চলেন না। তাঁরা নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে ভাল-মন্দ বিচার করেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এ ছাড়া দেখা গিয়েছে, নতুন ভোটারেরা সাধারণত প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ ছাড়তে চান না। ফলে নতুন ভোটারদের মধ্যে প্রায় সকলেই ভোট দেন। তাই সব দলের নজরেই নতুন ভোটারেরা থাকেন।
পুরুলিয়ায় নাম বাদ যাওয়ার পরে এখন ভোটারের সংখ্যা ২২ লক্ষ ৩৭ হাজারের বেশি (৩৩,১৬৯ বিবেচনাধীন ভোটার বাদ দিয়ে)। সেখানে মাত্র ২৮ হাজার নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া স্বাভাবিক নয় বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। শাসকদলের দাবি, তাঁদের কর্মীরা নতুন ভোটারদের নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করানো, তাঁদের নথিপত্র ঠিকঠাক করে দেওয়ার মতো কাজ গুরুত্ব দিয়েই করেন। তাঁদের হিসাবে নতুন ভোটারের সংখ্যা ২৮ হাজারের বেশি হওয়র কথা। তাই এই সংখ্যা প্রত্যাশিত নয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুলিয়া জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে পুরুলিয়া বিধানসভায় (৪৪৩৬ জন)। ঘটনাচক্রে পুরুলিয়া বিধানসভাতেই সব থেকে বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। নাম অন্তর্ভুক্ত সব চেয়ে কম হয়েছে রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় (২২৭৫ জন)।
পুরুলিয়াতে তৃণমূলের বিএলএ ১ তথা দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুষেণ মাঝির অভিযোগ, ‘‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা নির্বাচন কমিশন যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিতেই বেশি উৎসাহী। তাই নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করাই হয়নি।বাস্তবে এর চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করেছেন। বিষয়টি আমাদের দলের তরফে কমিশনের নজরে আনা হয়েছে।’’ কিছু বিএলও মানছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রথম থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষের যে চাপ ছিল, সেটা সামলে নতুনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি যথাযথ ভাবে দেখভাল করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
এ দিকে বিজেপির দাবি, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া এখনও চলছে।তাই এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে। বরাবর এটাই হয়ে থাকে। বিজেপির পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আসলে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে। তাতেই এ বারে ভোটে পরাজয়ের ভয় পাচ্ছে তৃণমূল। প্রথম থেকেই তাই কমিশনকে নিশানা করে উল্টোপাল্টা বিবৃতি দিচ্ছেন ওঁদের নেতারা।’’