Publishers and Book Seller Guild

প্রকাশক গিল্ডের ‘নিয়ন্ত্রণ’ এ বার কি বিজেপির হাতে

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নিজে সাহিত্যপ্রেমী। নতুন বইপত্রের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন।

বিপ্রর্ষি চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ০৮:০৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যে পালাবদলের পরে টলিউড-সহ নানা ক্ষেত্রে পুরনো নিয়ন্ত্রক কমিটিগুলি ভেঙে দিয়েছে সরকার। মূলত ‘বিজেপি-ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিতদের নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কমিটি। সূত্রের খবর, এ বার ‘পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড’ পুনর্গঠনও সময়ের অপেক্ষা। পাশাপাশি, বইপাড়াকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও দুরবস্থার যে নানা অভিযোগ, সেই জায়গা থেকে এলাকার পুনরুজ্জীবন ঘটানোর বিষয়েও ভাবনা-চিন্তা চলছে বিজেপি শিবিরের অন্দরে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নিজে সাহিত্যপ্রেমী। নতুন বইপত্রের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। কিন্তু গিল্ড পুনর্গঠন কেন জরুরি, সেই প্রশ্নে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের পর্যবেক্ষণ, মার্ক্সীয়-সাহিত্যের প্রচারে বিভিন্ন প্রকাশক, রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে প্রকাশকদের একাংশকে ‘ব্যবহার করে’ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই প্রকাশের অভিযোগও উঠত নানা মহল থেকে। কিন্তু এত দিন ‘রাষ্ট্রবাদী ও হিন্দুত্ব’ সংক্রান্ত বই প্রকাশে বইপাড়ার প্রকাশকদের বড় অংশের অনীহা ছিল বলে ওই অংশের মত। এই পরিস্থিতি বদলাতে গিল্ডে যাতে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ লোকজনের সংখ্যা বাড়ে, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে। পাশাপাশি, সামনেই কলকাতা বইমেলার ৫০ বছর। সেখানে ‘নতুন ভাবনা’ যাতে তুলে ধরা যায়, সে জন্যও বইমেলা শুরুর আগে থেকে গিল্ডে ‘বদলের হাওয়া’ আনতে চাইছে বিজেপি।

গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন, “কংগ্রেস আমলে বইমেলার শুরু। বাম-আমলে দীর্ঘ দিন পাল্টা বইমেলা হত। ১৯৯৫ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজেদের মেলা বন্ধ করে দেয় ও গিল্ডকে কলকাতা বইমেলা আয়োজনে সহযোগিতা করে। আমরা টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের মতো সরকার-পোষিত সংস্থা নই। এখানে স্বরূপ বিশ্বাসের মতো কারও একাধিপত্য নেই! আমাদের স্বকীয়তা আছে। এখানে ব্যান-সংস্কৃতি নেই। সব রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ আছেন। দিনের শেষে তাঁদের পরিচয়, তাঁরা প্রকাশক। আমরা বরাবর সরকারকে সমস্ত প্রাপ্য মিটিয়েছি।”

বইপাড়ায় বিজেপির ‘নিয়ন্ত্রণ’-ও ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছে বলেই মত নানা শিবিরের। যেমন, ২৯ জুন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহের জন্মদিনে ‘বঙ্গীয় গ্রন্থশিল্প পরিষদ’ যে কর্মসূচি নিয়েছে, যেখানে থাকার কথা শমীক এবং আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসুর। অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার, সমাজমাধ্যম শাখার আহ্বায়ক সপ্তর্ষি চৌধুরী, রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি তনুজা চক্রবর্তী প্রমুখ। সপ্তর্ষি বলেছেন, “সাহিত্যিক বুদ্ধদেব আমৃত্যু বিজেপির ভাবনার সঙ্গে সহমত ছিলেন। তাই তাঁকে সম্মান জানাতেই এই অনুষ্ঠান।” সূত্রের খবর, সেখানে বইপাড়ার সব প্রকাশক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখান থেকেই গিল্ড-পুনর্গঠনের সলতে পাকানো শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেছেন, “একটি আধিপত্যবাদের বদলে অন্য আধিপত্যবাদের জায়গা করে নেওয়া সৃজনশীলতার পক্ষে আশঙ্কার।” বামপন্থী প্রকাশনা সংস্থা ন্যাশনাল বুক এজেন্সির অধিকর্তা অনিরুদ্ধ চক্রবর্তীরও বক্তব্য, “গিল্ডের সদস্য যাঁরা, তাঁরা দিনের শেষে ব্যবসায়ী। তাই তাঁদের সরকারকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা থাকে। বইমেলা নিয়ে অনেক অনিয়ম হয়েছে। তৃণমূলের মুখপত্রের স্টলকে সব চেয়ে ভাল জায়গায় দেওয়া হত। বাকি সংস্থাগুলি লটারির মাধ্যমে স্টল পেত। তবুও বইমেলার গর্বিত ইতিহাস আছে। সেখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হলে গরিমা নষ্ট হবে।”

আরও পড়ুন