TMC Conflict

‘অপসারিত’ মমতা! ঋতব্রতদের ডাকা বৈঠকে তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়, পদ থেকে সরানো হল অভিষেককেও

নতুন কমিটির সহ-সভাপতি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এ ছাড়াও, তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং রথীন ঘোষকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১৮:০০
Ritabrata Banerjee and his associates have reshuffled organizational posts within the TMC

নিউ টাউনের এক হোটেলে বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। ছবি: সংগৃহীত।

তৃণমূল থেকেই ‘অপসারিত’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! তৃণমূলের ‘দখল’ নিল বিদ্রোহী শিবির। অন্তত এমনই দাবি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। ‘তৃণমূলে’ নতুন কমিটি গঠন করা হল। সেই কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হলেন হাওড়া মধ্য বিধানসভার বিধায়ক অরূপ রায়কে। শুধু তা-ই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বেছে নেওয়া হল নতুন সাধারণ সম্পাদক।

Advertisement

সোমবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন ছিল। সেই অধিবেশন শেষে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কেরা নিউ টাউনের একটি হোটেলে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক। এ ছাড়াও, কলকাতার প্রায় ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। সেই বৈঠকেই ‘তৃণমূলের’ ৩০ জনের কমিটি তৈরির কথা জানানো হয়।

বিদ্রোহী বৈঠকে তৃণমূলের দলীয় সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার কথা। কিন্তু ২০২২ সালের পর আর তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়নি। সেই কারণে প্রস্তাব এনে ভেঙে দেওয়া হল আগে জাতীয় কর্মসমিতি। নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করল ঋতব্রতদের ‘তৃণমূল’। সেই কর্মসমিতির চেয়ারম্যান মধ্য হাওড়ার বিধায়ক। এ ছাড়াও বেছে নেওয়া হয়েছে সহ-সভাপতি, কোষাধ্যাক্ষও।

নতুন কমিটির সহ-সভাপতি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এ ছাড়াও, তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং রথীন ঘোষকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত ছাড়াও বেছে নেওয়া হয়েছে জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিনকে। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। উল্লেখ্য, সোমবারে বিদ্রোহীদের বৈঠকে যে ব্যানার টাঙানো হয়েছিল তাতে মমতার ছবি ছিল না। মহাত্মা গান্ধী, বিআর অম্বেডকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের ছবি ছিল।

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের ফুলকি দেখা যায়। সেই ফুলকি ধীরে ধীরে বড়সড় আগুনের চেহারা নেয়। একে একে বিধায়কের বিদ্রোহ শুরু করেন। বিদ্রোহের সূত্রপাত সই-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, অভিষেক বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে তৃণমূল বিধায়কদের সই করা প্রস্তাবিত চিঠি পাঠান, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়। সেই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির সন্দীপন। সেই নিয়ে টালবাহানা চলে বেশ কয়েক দিন। দলের মধ্যে ভাঙন ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে। তৃণমূলের রাশ আলগা হতে থাকে মমতার হাত থেকে। প্রথম পর্যায়ে একসঙ্গে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রতকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা করা হয়।

সেই শুরু তৃণমূলে ভাঙন। পরে একে একে ফিরহাদদের মতো মমতা-ঘনিষ্ঠেরাও বিদ্রোহ শিবিরে নাম লেখাতে শুরু করেন। শুধু তৃণমূলের পরিষদীয় দলে নয়, ভাঙন ধরে সংসদীয় দলেও। একসঙ্গে লোকসভার ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছাড়ে। ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন পার্টি অফ ইন্ডিয়া নামে এক রাজনৈতিক দলের হাত ধরেন তাঁরা। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেবেরা রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন।

শুধু উঁচুতলায় নয়, তৃণমূলের নিচুতলার সংগঠনেও ভাঙন ধরতে থাকে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক পড়ে যায়। প্রশ্ন উঠতে থাকে আসল তৃণমূল কোনটা? মমতার হাতে যে তৃণমূল আছে না কি ঋতব্রতের শিবির? সোমবারের বৈঠকে ঋতব্রতেরা স্পষ্ট জানান, তাঁরাই আসল আসল তৃণমূল। সেই সঙ্গে কমিটি গঠন করেন। সেই বৈঠকে যোগ দিতে দেখা যায় মমতার তৈরি করে দেওয়া তৃণমূলের নতুন কমিটির রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পুত্র সৌরভ বসুকেও। তিনি কলকাতা পুরসভার ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ছিলেন।

যদিও সোমবারের বৈঠককে গুরুত্ব দিতে নারাজ বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। মমতার কালীঘাটের বাড়ি থেকে বৈঠক সেরে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমার্থক। আমাদের দলের যা কাঠামো তাতে এগুলো করার এক্তিয়ার ওদের (বিদ্রোহী) নেই।’’

Advertisement
আরও পড়ুন