পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি। —ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। বৃহস্পতিবার কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য, শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বেরা। শপথগ্রহণের পরেই রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা প্রকাশ করেন নবনিযুক্ত রাজ্যপাল। সেই বার্তায় তিনি পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক এবং বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এই রাজ্যের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে অত্যন্ত ধন্য ও বিনম্র বোধ করছি।’’
বার্তায় রবি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ এমন এক মহান ভূমি যা কয়েক হাজার বছর ধরে ভারতের আধ্যাত্মিক, বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘এই সেই ভূমি যেখানে, বহু সহস্র বছর আগে বেদের চিরন্তন জ্ঞান বিকশিত হয়েছিল। একই সঙ্গে গৌতম বুদ্ধের শিক্ষাও এখানে নতুন রূপে প্রকাশ পেয়েছিল এবং ভক্তি আন্দোলনের মহান ধারাও এই ভূখণ্ডে বিকশিত হয়েছিল’। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বিদেশি আক্রমণ ও শাসনের কঠিন সময়ে যখন দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল, তখনও এই মাটিতে জন্ম নিয়েছেন বহু মহান ব্যক্তিত্ব ও সাধক’। তাঁদের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন চৈতন্য, রামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম্’ যে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ‘যুদ্ধধ্বনি’ হয়ে উঠেছিল, সেই কথাও স্মরণ করেন তিনি।
এছাড়াও বার্তায় রাজ্যপাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশাল মাপের কবি ও চিন্তাবিদ’ হিসাবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, শ্রীঅরবিন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাজ্যপালের বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও বিশেষ ভাবে উঠে আসে। তাঁর মতে, এই রাজ্যের মানুষ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জাতীয় চেতনা গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন। বার্তার শেষাংশে রবি লিখেছেন, তিনি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করছেন যাতে তিনি জ্ঞান ও শক্তি লাভ করেন। পূর্ণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করতে পারেন। তাঁর এই বার্তা প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।