প্রতীকী ছবি।
এসআইআরের মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া আইনবিরোধী নয়। ভোটারদের নোটিস ও শুনানির অধিকার বজায় রাখা হয়েছে। নথিপত্র যাচাইয়ের নিয়মও যুক্তিসঙ্গত ও আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদি কোনও ব্যক্তির নাম ভুল করে বাদ পড়ে যায়, তা হলে তিনি পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন এবং নির্বাচন কমিশনকে সেই আবেদন আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখতে হবে।
নাগরিকত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। সেই সিদ্ধান্ত নেবেন নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা তৈরির সময় নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারে, কিন্তু সেই ক্ষমতা শুধুই ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার প্রশ্ন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানেই কাউকে বিদেশি নাগরিক ঘোষণা করা যাবে না।
নির্বাচন কমিশন এমন নথি চেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে থাকার কথা। আগের তুলনায় এ বার আরও বেশি ধরনের নথি গ্রহণ করা হচ্ছে, তাই এই প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃত ভাবে মানুষকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা বলা ঠিক নয়। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা তৈরির সময় নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারে, কিন্তু সেই ক্ষমতা শুধুই ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার প্রশ্ন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
এসআইআরের মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনও আইনের সীমার মধ্যেই রয়েছে এবং এতে ভোটারদের মৌলিক প্রক্রিয়াগত অধিকার রক্ষা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সময় নির্দিষ্ট নথি চাওয়া বেআইনি নয়, বরং সঠিক ও একরকম যাচাই নিশ্চিত করার জন্য এটি প্রয়োজনীয়, এবং নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের নথি নির্দিষ্ট করার ক্ষমতা রয়েছে।
এসআইআরের উদ্দেশ্য বৈধ এবং সংবিধানসম্মত। সুপ্রিম কোর্ট কখনও বলেনি যে ভোটার তালিকায় নাম থাকা মানেই সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না।ভোটার তালিকায় নাম থাকলে নাগরিকত্বের একটি প্রাথমিক স্বীকৃতি থাকে, তবে প্রয়োজনে আইন মেনে যাচাই করা যেতে পারে, আর সেই যাচাইয়ের সময় ন্যায্য ও স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কোনও প্রক্রিয়া প্রথমে দেখে বাদ দেওয়ার বা সীমাবদ্ধ করার মতো মনে হলেও, যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে সেটিকে সংবিধানসম্মত ভাবে কার্যকর করা সম্ভব। এসআইআর এমন ভাবে কার্যকর করা হয়েছে, তালিকা নির্ভুল রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের অধিকারও যেন তাতে সুরক্ষিত থাকে।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে না। এর মূল ভিত্তি হল সঠিক, নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য ভোটার তালিকা। কারণ, ভোটার তালিকাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করে। কোনও পদক্ষেপ কতটা যুক্তিসঙ্গত বা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা শুধু কাগজে-কলমে বিচার করা যায় না। বরং, সেটি বাস্তবে কী ভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, তার উপরই শেষপর্যন্ত মূল্যায়ন নির্ভর করে।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪-এ কমিশনকে যে সাংবিধানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এসআইআর সেই দায়িত্বকেই কার্যকর করছে, এবং তা আইনসম্মত সীমার মধ্যেই করছে। কমিশন তার আইনগত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কাজ করেছে—এমন বলা যায় না। এসআইআরের উদ্দেশ্য সরাসরি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত।
কমিশন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনে নির্ধারিত ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতিকে বাতিল বা বদলে দিচ্ছে না। যখন আইন নিজেই কমিশনকে যে কোনও সময় বিশেষ পুনর্বিবেচনা করার ক্ষমতা দেয় এবং কী ভাবে সেই কাজ হবে তা নির্ধারণের স্বাধীনতাও দেয়, তখন শুধুমাত্র এই কারণে এসআইআরকে বেআইনি বলা যাবে না যে এটি সাধারণ ভোটার তালিকা সংশোধনের নিয়ম পুরোপুরি অনুসরণ করেনি।
নির্বাচন কমিশনের এসআইআর করার ক্ষমতা রয়েছে। এটি সাধারণ প্রক্রিয়া থেকে আলাদা হলেও একে বেআইনি বলা যায় না। মামলায় একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তোলা হয়েছে যে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে কি না।
নির্বাচন কমিশনের কি এসআইআর পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে? এসআইআর-এর উদ্দেশ্য কি বৈধ ও যুক্তিসঙ্গত? এসআইআর কি জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলির পরিপন্থী? সংবিধান ও আইন দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কি নির্দিষ্ট তথ্য বা নথি চাওয়ার ক্ষমতা রাখে? মূলত এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখেছে আদালত।
এসআইআর মামলার রায় ঘোষণা করছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছে বুধবার। এই মামলায় কতগুলি প্রশ্ন উঠেছে।