কোহলির সঙ্গে হেডের হাত না মেলানোর মুহূর্ত। ছবি: সমাজমাধ্যম।
সম্প্রতি আইপিএলের একটি ম্যাচে বিরাট কোহলির সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল ট্রেভিস হেডের। ওই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে ঘৃণাভাষণ এবং কুমন্তব্যের শিকার হয়েছিলেন হেড। তারও আগে সমাজমাধ্যমে বিষোদ্গারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন শ্রেয়স আয়ারের বোন শ্রেষ্ঠা। সমাজমাধ্যমে কুমন্তব্য করার জন্য এখন ভাড়া পাওয়া যায় লোক। বিভিন্ন সংস্থাও রয়েছে এই কাজের জন্য। সংবাদসংস্থার রিপোর্টে এমনই জানা গিয়েছে।
এই কাজ করার জন্য সংগঠিত একটি চক্র রয়েছে। তাদের অর্থ দিলেই কোনও নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে পরের পর সমালোচনা, কুমন্তব্য করা যাবে। আপত্তিকর কথাও লেখা যাবে। এমন শব্দ ব্যবহার করা হবে যাতে ওই ক্রিকেটার এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। গত এক দশকে এই ‘ব্যবস্থা’ গড়ে উঠেছে বলে জানা গিয়েছে।
সংবাদসংস্থাকে এক সূত্র বলেছেন, “কিছু সংস্থা রয়েছে যারা ২৫ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে এই কাজ করে। নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অসত্য, ঘৃণ্যভাষ্য চালানো হয়। এই অভিযান চালানোর জন্য কিছু মনগড়া তথ্য তুলে ধরা হয়। কী ভাবে বিষয়টা সমাজমাধ্যমে ‘ট্রেন্ডিং’ করা যাবে সেটা সংস্থার হাতে। কত ঘণ্টা ট্রেন্ডিং হচ্ছে তার উপর ভাড়ার দাম নির্ভর করে।”
সমাজমাধ্যম এখন অর্থ উপার্জনের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ক্রিকেটারেরা এক-একটি পোস্ট থেকে বেশ ভালই অর্থ রোজগার করেন। এখানেও রয়েছে নির্দিষ্ট পদ্ধতি। বেশির ভাগ ক্রিকেটারই নিজেদের ছবি এবং বাণিজ্যিক স্বত্ব ধরে রাখার ভার দেন কোনও ক্রীড়া পরিচালন সংস্থাকে। তারা সমাজমাধ্যমের কিছু প্রভাবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের প্রোফাইলের সঙ্গে যুক্ত করে। এতে ওই ক্রিকেটারের ‘রিচ’ এবং ‘ভিউ’ বাড়ে। তাঁর উপার্জনও বাড়ে। এ ভাবেই কিছু কিছু ক্রিকেটারের হাজার হাজার ফ্যান ক্লাব রয়েছে। প্রতিটিতেই যথেষ্ট সংখ্যক ফলোয়ার রয়েছে।
এই ফ্যান গ্রুপগুলি থেকেই সংগঠিত ভাবে মিথ্যাচার চালানো হয়। তাদের কাজই হচ্ছে একজন ক্রিকেটারের গুণগান করে অপর জনের বদনাম করা। সমাজমাধ্যমে দুই ক্রিকেটারের ফ্যান ক্লাবের মধ্যে মিথ্যা মিথ্যা যুদ্ধ বাধানোও এদের কাজ। এতে দু’জনেরই ‘রিচ’ বাড়ে। এখন শুধু ক্রিকেটার নয়, তাঁদের পরিবারের লোকও আক্রান্ত হচ্ছেন। এই বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত সূত্রেরা জানিয়েছেন, এর শেষ কোথায় তাঁরা জানেন না।