— প্রতীকী চিত্র।
সোমবারেও মোট ৫৫ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হল।
গত কয়েক দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পুলিশ জেলা এলাকা থেকে পাঁচ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছিল। সোমবার পুলিশের তরফে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডোবিলা সীমান্তে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে নথি যাচাই ও বিজিবি-র সঙ্গে আলোচনা সেরে ১২০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। সোমবার একই প্রক্রিয়া মেনে আরও ৫০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনসূত্রের খবর।
স্বরূপনগর সীমান্তে অস্থায়ী আটক-শিবিরগুলিতে এখনও বহু বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তেঁতুলিয়ায় পথের সাথী কেন্দ্রে রয়েছেন ২৩০ জন, চারঘাট ফ্লাড সেন্টারে ৭০ জন এবং মেদিয়া হাই স্কুলে ৬০ জন। সোমবার ভোরে ৫০ জনকে ফেরত পাঠানোর পরে বিকেল পর্যন্ত আরও ৪০ জন হাকিমপুর সীমান্তে আসেন। তাঁদের মধ্যে বিলকিস বিবি জানান, কলকাতার দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গৃহসহায়িকার কাজকরতেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘নতুন সরকার আমাদের রাখবে না বলে শুনেছি। তাই নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চাই। পাঁচ বছর আগে রোজগারের আশায় এক ভারতীয় দালালকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে এদেশে ঢুকেছিলাম।’’
মুর্শিদাবাদে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের জন্য তৈরি লালগোলার পদ্মাভবন ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন ছিলেন। রবিবার ভোররাতে ১৭ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়েছে, খবর জেলা পুলিশ সূত্রে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লালগোলার ওই হোল্ডিং সেন্টারে নতুন ভাবে কাউকে আনা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, আটকরা দক্ষিণ ভারতে দিনমজুরের কাজে গিয়েছিলেন, দেশে ফেরত যাওয়ার পথে তাঁদের আটক করা হয়েছে।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী বলেছেন, ‘‘যখন থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতারা ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’-এর কথা বলতে শুরু করেছেন, তখনই এই আশঙ্কা করে আসছি। ফেরত পাঠাতে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মানতে হয়। এরা সে সব কিছুর ধার ধারবে না, ধরে ‘পুশ ব্যাক’ করবে।’’ তিনি দাবি করেছেন, ‘‘কত জন অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হয়েছে, শ্বেতপত্র প্রকাশ করে প্রকৃত সংখ্যা জানাক কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।’’