Special Intensive Revision

ভুল হলে কোপে শুধু বিএলও-ই কেন, উঠছে প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এক দিকে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ঘনঘন নিয়ম বদলের, অন্য দিকে অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক চাপ নিয়ে। বিশেষ করে শাসক দল বিভিন্ন ক্ষেত্রেবিএলও-দের উপরে চাপ তৈরি করছে বলে বিরোধীদের একাংশের দাবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৮

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ’ হলে ‘উলুখাগড়ার’ প্রাণ কেন যাবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। প্রশাসনের অন্দরেও চর্চা— সব দায় কেন হবে বিএলও-দের?

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এক দিকে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ঘনঘন নিয়ম বদলের, অন্য দিকে অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক চাপ নিয়ে। বিশেষ করে শাসক দল বিভিন্ন ক্ষেত্রেবিএলও-দের উপরে চাপ তৈরি করছে বলে বিরোধীদের একাংশের দাবি। দুই চাপের মধ্যে পড়েছেন বিএলও-রা। কিন্তু কমিশন লিখিত ফরমান জারি করে বলেছে, বিএলও-দের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি বা প্রভাবিত হয়ে ইচ্ছাকৃত গরমিলের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করতে পারবেন জেলাশাসক। তিনি না করলে সিইও নিজে পদক্ষেপ করতে পারবেন।

প্রশ্ন উঠছে, এই খাঁড়া কি শুধুই বিএলও-দের উপরে থাকবে? আর প্রশাসন-কমিশনের বাকি আধিকারিকেরা পদের গরিমা এবং প্রশাসনিক প্রভাবে নিরাপদে থেকে যাবেন? রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সর্বোচ্চ স্তরকে কেন দায়বদ্ধতার মধ্যে আনা হবে না? কেনও পর্যবেক্ষকেরা নিজেদের দায় বাঁচিয়ে শুধু তৃণমূলস্তরের কর্মীদেরই চাপে রাখবেন?

গোটা রাজ্যে প্রায় ৮১ হাজার বিএলও-র বড় অংশ উদয়াস্ত পরিশ্রম করে কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে শুনানির চলতি পর্বে ধরা পড়ছে, ম্যাপিং-এ কিছু ভুল রয়ে গিয়েছে। ভোটার-তথ্যেও গরমিলের অভিযোগ উঠেছে কিছু ক্ষেত্রে। যার পরিণাম, ‘আন-ম্যাপড’ এবং তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতাভুক্ত হয়ে শুনানিতে হাজির হওয়া। অবাস্তব নানা ভুল দেখে কমিশন এই শাস্তিবার্তা দিয়েছে সম্প্রতি। তাদের যুক্তি, বিএলও-দের একাংশ রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত হয়ে ইচ্ছাকৃত কিছু গরমিল করেছেন। তাই জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য।

কিন্তু, এক জন বিএলও তৃণমূলস্তরে কাজ করেছেন। তাঁর উপরে রয়েছেনবিএলও সুপারভাইজ়ার, এইআরও, ইআরও, অতিরিক্ত জেলাশাসক (নির্বাচন), জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক। বহু বিডিও-ও এ কাজে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।

ফলে প্রশ্ন ওঠে, বিএলও যদি কোনও ভুল করেও থাকেন, তা হলে তা দেখার কথা ছিল বিএলও সুপারভাইজ়ারের। তাঁর চোখ এড়িয়ে গেলেও পরবর্তী সব স্তরের আধিকারিকদের মধ্যে অন্ততকারও চোখে তা পড়ল না, তা মনে করা অবাস্তব। ফলে ভুল থাকতে দেওয়ার ‘অপরাধ’ তাঁদের উপর কি বর্তাবে না?

কমিশন সূত্র বার বার অভিযোগ করেছে, তামিলনাড়ু, কেরলের মতো বিরোধীশাসিত রাজ্যগুলিতেও এসআইআর হলেও পশ্চিমবঙ্গের মতো সেখানে প্রশাসনিক অসহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে, প্রত্যেক আধিকারিক তাদের অধীনস্থ (ডেপুটেশনে) এবং কর্তব্যে গাফিলতি হলেই জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে সাজা হবে জানালেও কমিশন অসহযোগিতার প্রশ্নে কেন পদক্ষেপ করল না? কেন শুধুমাত্র বিএলও-দের জন্য শাস্তির পথ প্রশস্ত করেদেওয়া হল?

প্রসঙ্গত, চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে কমিশন এফআইআর সুপারিশ করার পরেও ডব্লিউবিসিএস সংগঠনের চাপে তা কার্যকর করতে পারেনি রাজ্য। যা নিয়ে কমিশন-রাজ্যের টানাপড়েন চলছে গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে।

যদিও কমিশন কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, গাফিলতি প্রমাণ হলে উল্লিখিত সকলেই জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতাতেই শাস্তি পেতে পারেন। তাই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে জেলাশাসক এবং সিইও-র শংসাপত্র দরকার হয়। সেখানে কোনও গরমিল ধরা পড়লে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। এক কর্তার কথায়, “সিইও সম্প্রতি সব জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।”

আরও পড়ুন