শঙ্কর ঘোষ। — ফাইল চিত্র।
তখনও হয়নি প্রাণঘাতী হামলা। মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন শিলিগুড়ি বিধানসভায় জয়ী বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ ফোনের ওপার থেকে একটা চিৎকার শুনতে পেয়েছিলেন বলে দাবি শঙ্করের। এর পরে চন্দ্রনাথ আর কথা বলেননি।
আজ, শুক্রবার পরিষদীয় দলের বৈঠক এবং কাল, শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে শুভেন্দুর সঙ্গে আলোচনা করার ছিল শঙ্করের। কিন্তু শুভেন্দুকে না পেয়ে চন্দ্রনাথের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। শঙ্কর জানান, কথা বলতে বলতেই হঠাৎ ফোনের ওপারে চিৎকার শুনতে পান। কিছু ক্ষণ বাদে ফোনে একাধিক ব্যক্তির গলাও শোনা যায়। তাই তিনি ফোন কেটে দিয়ে প্রথমে মোবাইলে বার্তা পাঠান।
শঙ্করের কথায়, ‘‘চন্দ্র হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে কি না, জানতে চাই। পাল্টা জবাব না পেয়ে ফের ফোন করি। একাধিক বার ফোন বেজে যায়। বেশ কিছু ক্ষণ বাদে কেউ এক জন ফোন ধরে জানান, চন্দ্রকে খুন করা হয়েছে। আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ওই ফোনটা ছেড়ে সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দুদাকে ফোন করেঘটনাটা জানাই।’’
গত বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। শুভেন্দু অধিকারীর বরাবর ঘনিষ্ঠ শঙ্কর। তাই শুভেন্দু ব্যস্ত থাকলে, অনেক সময়ে চন্দ্রনাথের সঙ্গেও নানা কথা হত শঙ্করের। বুধবার রাতেও একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শুভেন্দুকে না পেয়ে চন্দ্রনাথের সঙ্গে কথা বলছিলেন শঙ্কর। সে সময় বাড়ি ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। আততায়ীরা গাড়ির পথ আটকে গুলি করে খুন করে তাঁকে। শঙ্কর বলেন, ‘‘একটা চিৎকার শুনি। কিছু অস্পষ্ট আওয়াজ। সেগুলো গুলির শব্দ কি না, জানি না। তবে তার পরে চন্দ্র আর সাড়া দিচ্ছিল না। তখনই বুঝেছি, কিছু একটা হয়েছে। আমার সঙ্গেই যে শেষ কথা হবে চন্দ্রর,তা ভাবিনি!’’