Union Budget 2026

ভোটমুখী বঙ্গের প্রতি কতটা দরাজ নির্মলা, নজর সে দিকেই

গত বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বিহারের জন্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা অর্থমূল্যের প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন। এ বার পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলে, ভোটযুদ্ধে দল অনেকটাই এগিয়ে থাকবে বলেই আশাবাদী বিজেপি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩১
নির্মলা সীতারামন।

নির্মলা সীতারামন। —ফাইল চিত্র।

গত বছর ছিল বিহারে ভোট। তাই বিহারকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিশ্রুতির বানে ডেকেছিল। এ বারে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। প্রশ্ন উঠেছে, ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গ ঘিরে এ বার কি বিহারের মতো প্রতিশ্রুতির বন্যা বইবে? না কি বিগত কয়েক বছরের ধাঁচে এ বারও বাজেটের পরে বঞ্চনার অভিযোগে সরব হবেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এ কথা ঠিক যেপশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও কেরল, তামিলনাড়ু, অসম ও পুদুচেরিতে ভোট রয়েছে। এর মধ্যে অসম ও পুদুচেরিতে দল সরকার ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদী পদ্মশিবির। আর বাকি তিন রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাই বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ বাড়তি কী পেল তা জানতে উদ্‌গ্রীব সবাই।

গত বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বিহারের জন্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা অর্থমূল্যের প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন। এ বার পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলে, ভোটযুদ্ধে দল অনেকটাই এগিয়ে থাকবে বলেই আশাবাদী বিজেপি। রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘বাজেটে কী ঘোষণা হল তা সকলে খেয়াল করেন। তাই এ বারের বাজেটে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দের প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের নাম বাংবার উঠে আসুক— এমনটাই দল চাইছে। কারণ যত বার পশ্চিমবঙ্গের নাম উচ্চারণ হবে, তত আমাদের পক্ষে বিরোধীদের তোলা বঞ্চনার তত্ত্বের বিরুদ্ধে জবাব দিতে সুবিধা হবে।’’

সূত্রের মতে, বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য পরিকাঠামো খাতে একাধিক বিষয়ের ঘোষণা হতে পারে। উত্তরবঙ্গ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। তাই সেখানে যাতে তৃণমূল দাঁত ফোটাতে না পারে, তাই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকেই ‘পাখির চোখ’ করছেন শাসক নেতৃত্ব। সূত্রের মতে, আমজনতার চিকিৎসার সুবিধার কথা ভেবে রবিবারের বাজেটে উত্তরবঙ্গের জন্য একটি এমসের ঘোষণা হলেও হতে পারে। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ সংযোগকারী একাধিক সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন, দার্জিলিঙের সার্বিক উন্নয়ন ও পর্যটন বিকাশ সংক্রান্ত ঘোষণা করতে পারেন নির্মলা। কলকাতার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের জন্য সদ্য বন্দেভারত এক্সপ্রেস চালু হয়েছে। সূত্রের মতে, উত্তরবঙ্গে রেলের পরিষেবা বাড়াতে একাধিক ট্রেন, রেল প্রকল্প, ডাবলিং ও বৈদ্যুতিকরণের ঘোষণা হতে পারে।

অসম-সহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে দেশের মূল ভূ-ভাগের যোগাযোগে উত্তরবঙ্গ করিডর হিসেবে কাজ করে থাকে। যে হেতু গত এক দশকে উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দিল্লির রেল যোগাযোগ অনেক বেড়ে গিয়েছে, তাই উত্তরবঙ্গের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ যাতে সঠিক ভাবে নজরদারি করা সম্ভব হয়, তাই রেলের জন্য আলাদা জ়োগন গঠনের দাবি জানিয়েছেন কার্তিক পাল-সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি সাংসদ। সূত্রের মতে, নজরদারির লক্ষ্যে বড় জ়োনকে ভেঙে নতুন জ়োন করার প্রশ্নে নীতিগত ভাবে রাজি রেলও। কিন্তু জ়োন ঘোষণা এই বাজেটে হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে লজিস্টিক হাব নির্মাণ, পশ্চিমবঙ্গের বন্দরগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও ক্ষমতাবৃদ্ধি করা, সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে ঘোষণা করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।

তবে বিহারের ক্ষেত্রে নির্বাচনে যে এনডিএ জিততে চলেছে সে বিষয়ে অনেকাংশেই নিশ্চিত ছিলেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। ফলে ঢালাও প্রকল্প ঘোষণা করতে পিছপা হননি নির্মলারা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যে নিশ্চিত ভাবে ক্ষমতায় আসতে চলেছে, এমন কোনও আভাস পাননি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক ঘোষণার পরে যদি ফল আশানরূপ না হয়, শেষ পর্যন্ত তৃণমূলই যদি ক্ষমতায় আসে— তা হলে বাজেটে ঘোষিত প্রকল্পগুলির রূপায়ণ রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে থমকে যাবে। লাভের লাভ হবে না। তাই সব দিক বিবেচনা করেই প্রকল্প ঘোষণাকরা হবে।’’

আরও পড়ুন