BSF and SSB

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে গতি, বিএসএফ ও এসএসবি-কে ৫৪ একরের বেশি জমি হস্তান্তর মন্ত্রিসভার

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে যেখানে এখনও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ বাকি রয়েছে বা বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) তৈরি করা প্রয়োজন, সেখানেই এই জমি ব্যবহার করা হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ২২:৫১

—প্রতীকী চিত্র।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে গতি আনতে ফের বড়সড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই এই জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

বৈঠক শেষে নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-কে এই জমি দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোট ৫৪.২৪ একর সরকারি খাস জমি স্থায়ী ভাবে হস্তান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।

নবান্ন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সীমান্তবর্তী জেলায় এই জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মূলত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে যেখানে এখনও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ বাকি রয়েছে বা বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) তৈরি করা প্রয়োজন, সেখানেই এই জমি ব্যবহার করা হবে। জেলাগুলির তালিকায় রয়েছে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা। মন্ত্রী জানান, হস্তান্তরিত এই ৫৪.২৪ একর সরকারি খাস জমি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। তার মধ্যে অন্যতম হল নতুন বর্ডার আউটপোস্ট বা সীমান্ত চৌকি নির্মাণ করা, অসম্পূর্ণ সীমান্ত বেড়া বা কাঁটাতারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর যাতায়াতের সুবিধার্থে নতুন রাস্তা তৈরি করা।

দীর্ঘ দিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কিছু অংশে জমি জটের কারণে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ আটকে ছিল। সেক্ষেত্রে বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযোগ ছিল যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জমি চাইলেও, রাজ্য সরকার গড়িমসি করায় সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ ব্যহত হচ্ছে। এই নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একাধিক বার আলোচনাও হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কাজ রুখতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাই মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের পরেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে সীমান্তে জমির সমস্যা মিটিয়ে কাঁটাতার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করা শুরু করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে রাজ্য মন্ত্রিসভার এই জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে এক দিকে যেমন আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করা সম্ভব হবে, তেমনই কেন্দ্রীয় বাহিনীগুলির কাজের সুবিধার্থে পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা যাবে। রাজ্য সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত সুরক্ষার কাজ অনেকটাই গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন