পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ বৃদ্ধি করল রাজ্য সরকার। আরও ৫০০ টাকা করে বাড়িয়ে দেওয়া হল মাসিক ভাতার পরিমাণ। বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেটে এই প্রস্তাব পেশ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর বর্ধিত অর্থ কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ, ভোটের আগেই প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বাড়তি টাকা ঢুকে যাবে। সরকারি এই প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত গ্রাহকের সংখ্যা ২ কোটি ২১ লক্ষ। চন্দ্রিমা জানিয়েছেন, আরও ২০ লক্ষ ৬২ হাজার মহিলার আবেদন জমা পড়েছে। তাঁদের প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। নতুন, পুরনো সকলেই বর্ধিত অর্থ পাবেন। মাসে যাঁরা এত দিন ১০০০ টাকা করে পেতেন, তাঁরা পাবেন ১৫০০ টাকা। এ ছাড়া, তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে মাসে ১২০০ টাকা করে পান। ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁদের বরাদ্দ বেড়ে হবে ১৭০০ টাকা।
বর্ধিত অর্থের জন্য রাজ্য বাজেটে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের মোট বরাদ্দ আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকেই এই বরাদ্দ কার্যকর হবে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই শেষ রাজ্য বাজেট। এতে রাজ্যবাসীকে যে সরকার দু’হাত ভরে দেবে, তা আন্দাজ করেছিলেন অনেকেই। প্রত্যাশামতোই সর্বত্র বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ্য ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে আরও চার শতাংশ। এ ছাড়া, আশাকর্মীদের ভাতা ১০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অঙ্গনওয়াডি কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদোর ভাতা ১০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। বেকার যুবকদের জন্যেও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বলা হয়েছে, ক্ষমতায় ফিরলে আগামী অগস্ট থেকে মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীরা মাসিক ১৫০০ টাকা সরকারি সহায়তা পাবেন।
মহিলাদের মাসিক ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়ে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বরাদ্দ বেড়েছে। ৫০০ থেকে বেড়ে ভাতা হয়েছে ১০০০ টাকা। এ বার তা আরও ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হল। ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সি যে কোনও মহিলাই এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন। প্রকল্পের মেয়াদ ৬০ বছর পর্যন্ত। তবে ষাটোর্ধ্বেরা একই পরিমাণ অর্থ বার্ধক্য ভাতা হিসাবে পেয়ে থাকেন।